রতন রায়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
২৯ অক্টোবর ২০২৬:
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানজিলা তাসনিমের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি সংবাদ পরিবেশনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দৈনিক কালবেলার রাজারহাট উপজেলা প্রতিনিধি “ছুটি নিয়ে প্রশ্নের মুখে ইউএনও, সেবা না পেয়ে ফিরছেন মানুষ” শিরোনামে যে সংবাদটি পরিবেশন করেছেন, তা মনগড়া ও অপেশাদার সাংবাদিকতার শামিল। সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিক সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন একজন সাংবাদিকের অপেশাদার আচরণের বহিঃপ্রকাশ। চ্যানেল ওয়ানের জেলা প্রতিনিধি রাশেদুজ্জামান রাশেদ ইউএনওকে নিয়ে ওই সংবাদের মন্তব্যে জানান, একজন ইউএনও বিধি অনুযায়ী ছুটি নিতে পারেন। ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের সংবাদ পরিবেশন সাংবাদিকতার নীতি বহির্ভূত।
ওই সংবাদে ইউএনওর ছুটির কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করা হলেও জেলা প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম ২৫ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মোট চার দিনের নৈমিত্তিক ছুটির জন্য জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বরাবর আবেদন করেন। ২৩ অক্টোবর ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে চার দিনের ছুটি মঞ্জুর করে এবং এক দিন স্টেশনে না থাকার অনুমতিসহ ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে জেলা প্রশাসন।
ছুটি নিয়ে মনগড়া সংবাদ পরিবেশনের বিষয়ে মুখ খুলেছেন ইউএনও তানজিলা তাসনিম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিধি মোতাবেক নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করা তার মৌলিক অধিকার। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার নিয়মতান্ত্রিক ছুটি গ্রহণের মতো স্বাভাবিক বিষয়কে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এত আলোচনা বা চর্চার যৌক্তিকতা থাকে না।
‘স্যার’ সম্বোধন নিয়ে তৈরি বিতর্কেও বিশদ ব্যাখ্যা দেন ইউএনও তানজিলা তাসনিম। তিনি জানান, যেকোনো মাননীয় মন্ত্রীকে সম্মানসূচক ‘স্যার’ সম্বোধন করা অত্যন্ত স্বাভাবিক শিষ্টাচার। ‘স্যার’ শব্দটি সম্মান প্রদর্শনের একটি মৌলিক সংস্কৃতি, যা অনেকের জানা নেই বলে অযৌক্তিক সমালোচনা করা হচ্ছে। তিনি তার পূর্ববর্তী কর্মস্থলে অত্যন্ত সততার সঙ্গে সাধারণ জনগণের কল্যাণে অক্লান্ত পরিশ্রম করে সেবা দেওয়ার কথাও জানান।
ইউএনও বলেন, অপেশাদার সাংবাদিকতা একজন সরকারি কর্মকর্তার মানহানির শামিল। একজন নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মনগড়া সংবাদ পরিবেশন করা সাইবার বুলিং ও হেয়প্রতিপন্ন করার শামিল; এটি কোনো সুস্থ ও দায়িত্বশীল সংবাদচর্চার অংশ হতে পারে না। তিনি সাংবাদিক সমাজের কাছে দায়িত্বশীল ও পেশাদার সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করেন।


