ঢাকাTuesday , 25 August 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর শূন্য প্রত্যাবাসন, ক্যাম্পে নিরাপত্তা সংকট ও স্থানীয় জনপদে বাড়ছে চাপ

    admin
    August 25, 2026 1:59 pm
    Link Copied!

    জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার

    ২৫ আগস্ট ২০১৭। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অভিযান ও ব্যাপক সহিংসতার মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সেই সংকটের নয় বছর পূর্ণ হলো আজ। দীর্ঘ এই সময়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, আন্তর্জাতিক উদ্যোগ এবং প্রত্যাবাসনের একাধিক প্রচেষ্টা হলেও নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন কার্যত শুরু করা সম্ভব হয়নি।
    বরং মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। রাখাইনে সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের মধ্যে ২০২৪ সাল থেকে নতুন করে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। UNHCR-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ, এর মধ্যে কক্সবাজারে ১১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি এবং ভাসানচরে প্রায় ৩৩ হাজার ৮০০ জন অবস্থান করছে। একই সময়ে ২০২৪ সাল থেকে আসা নতুনদের মধ্যে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৪০ জনের বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ হয়েছে। এটি হচ্ছে শুধুমাত্র কাগজে কলমের হিসাব এর সাথে বাস্তব চিত্র সম্পুর্ণ ভিন্ন স্থানীয়দের মুখে মুখে তথ্য হচ্ছে প্রায় ২০ লাখের কাছাকাছি হবে রোহিঙ্গা জনগোষ্টি ।
    ফলে নয় বছর পর রোহিঙ্গা সংকট আর কেবল মানবিক সহায়তার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক ও মানব পাচার, সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্য, সীমান্ত অপরাধ, পরিবেশগত ক্ষতি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক চাপ – সব মিলিয়ে কক্সবাজারে এটি ক্রমেই একটি বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সংকটে পরিণত হচ্ছে।

    ক্যাম্পে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল
    কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে বিপুল সংখ্যক মানুষ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে। এই পরিস্থিতিতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা যেমন কঠিন, তেমনি ক্যাম্পের ভেতরে প্রভাব বিস্তারকারী বিভিন্ন সংগঠিত গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
    ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসের Joint Protection Monitoring Report-এর হিসাবে ৩৩টি ক্যাম্পে ৩৯৮টি গুরুতর নিরাপত্তা ঘটনা নথিভুক্ত হয়। এর মধ্যে ছিল ১৭৬টি অপহরণ/অপহরণচেষ্টা, ১১৮টি গুরুতর শারীরিক হামলা, ৫৫টি চাঁদাবাজি, ১৫টি গুলিবর্ষণ বা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা, ২৪টি জোর পূর্বক নিয়োগ এবং ১০টি হত্যাকাণ্ড। এসব ঘটনায় সরাসরি ৬৩৪ জন রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
    প্রতিবেদনটি বলছে, আগের প্রান্তিকের তুলনায় গুরুতর নিরাপত্তা ঘটনার সংখ্যা কিছুটা কমলেও অপহরণ ও অপহরণ চেষ্টার ঘটনা ১২ শতাংশ বেড়েছিল। একই সময়ে সংগঠিত সশস্ত্র গোষ্ঠী গুলো শরণার্থীদের মিয়ানমারের সংঘাতে অংশ নিতে চাপ প্রয়োগ ও নিয়োগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।
    পরবর্তী সময়েও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের পর্যবেক্ষণে ক্যাম্পে গুলিবর্ষণের ঘটনা আগের প্রান্তিকের তুলনায় তিন গুণ হওয়ার কথা বলা হয়। সংগঠিত গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মোট নিরাপত্তা ঘটনার উল্লেখযোগ্য অংশে জড়িত ছিল এবং অপহরণ, চাঁদাবাজি ও জোরপূর্বক নিয়োগের অভিযোগও অব্যাহত ছিল।
    ২০২৬ সালেও বিচ্ছিন্ন সহিংসতা থামেনি। মে মাসে উখিয়ার ক্যাম্পে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাম্প জুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়।

    সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব
    রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সময় আরসা (ARSA), আরএসও (RSO), এআরএ (ARA) সহ বিভিন্ন সংগঠিত গোষ্ঠীর নাম এসেছে। তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, নিয়ন্ত্রণ এবং মিয়ানমারের সংঘাতে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের অভিযোগ রয়েছে।
    Joint Protection Monitoring-এর তথ্য অনুযায়ী, এসব গোষ্ঠী শুধু নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়ায় না, সাধারণ শরণার্থীদের ওপরও প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নিয়োগের চেষ্টা করে। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে শিশু-কিশোরদেরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ার তথ্য উঠে আসে। Human Rights Watch-এর প্রতিবেদনে ক্যাম্প থেকে শিশুদের সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাজে ব্যবহারের অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে।
    এর ফলে ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গারাই অনেক ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নিরাপত্তা সংকটে পড়ছেন – একদিকে অপরাধী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর ভয়, অন্যদিকে সংঘাতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা।

    অপহরণ ও চাঁদাবাজি: আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ক্যাম্পের বাইরে
    অপহরণ এখন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা সংকটের অন্যতম বড় নিরাপত্তা উদ্বেগ। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকেই ১৭৬টি অপহরণ ও অপহরণ-সংক্রান্ত ঘটনা পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। একই সময়ে শিশু অপহরণের ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
    এই অপরাধের প্রভাব শুধু ক্যাম্পের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়। ক্যাম্প সংলগ্ন স্থানীয় বাজার, সড়ক, পাহাড়ি এলাকা ও সীমান্তবর্তী জনপদেও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন কর্মী, ভূমি মালিক, জেলে এবং বিভিন্ন পেশার মানুষও অপরাধী চক্রের ঝুঁকির মুখে পড়ছেন বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
    অপহরণের পাশাপাশি চাঁদাবাজিও ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি বড় সমস্যা। Joint Protection Monitoring-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে ৫৫টি গুরুতর চাঁদাবাজির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল।

    মাদক ও সীমান্তপথের অপরাধ
    কক্সবাজারের ভৌগোলিক অবস্থান মাদক ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত, পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং বঙ্গোপসাগরের উপকূল – এই তিন ধরনের পথকে অপরাধী নেটওয়ার্ক গুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করে।
    ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার থেকে মাদক প্রবেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি পথ ও সমুদ্র পথের যোগসূত্র রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া যায়। গবেষণাটি একই সঙ্গে সতর্ক করেছে যে মাদক সংক্রান্ত সমস্যা রোহিঙ্গা আগমনের আগেও ছিল, তবে ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি সেই ঝুঁকিকে আরও জটিল করেছে।
    আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানেও মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত অপরাধের চিত্র পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের নভেম্বরের এক অপারেশনাল আপডেটে কক্সবাজারের ক্যাম্প, স্থানীয় জনপদ ও সীমান্ত এলাকায় ১৪৪টি নিরাপত্তা ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়, এর মধ্যে মাদক ও অস্ত্র পাচারও ছিল। একই সময়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, অস্ত্র ও চোরাই মালামাল জব্দ করার তথ্য দেওয়া হয়।
    ২০২৫ সালের একটি মাদক মামলায় কুতুপালং ক্যাম্পের কয়েকজন বাসিন্দার বিরুদ্ধে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগে আদালতে বিচার হয়েছে – যা সীমান্ত ভিত্তিক মাদক নেটওয়ার্কের বিস্তারের ঝুঁকির একটি উদাহরণ।

    মানব পাচার ও সমুদ্র পথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা
    ক্যাম্পের দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা, সীমিত জীবিকার সুযোগ, ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা এবং মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তা রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে অবৈধ ভাবে অন্য দেশে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে।
    টেকনাফের উপকূল ও বঙ্গোপসাগর ব্যবহার করে মালয়েশিয়াগামী নৌযাত্রার ঘটনা এরই একটি বড় উদাহরণ। ২০২৬ সালের মার্চে টেকনাফের পাহাড়ি এলাকা থেকে দুই কিশোরকে উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ তাদের মালয়েশিয়ায় পাচারের অভিযোগে কয়েকজন রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়।
    ২০২৫ সালেও এই সমুদ্র পথের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়েছে। মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের জলসীমার কাছে রোহিঙ্গাবাহী নৌকা ডুবে প্রাণহানির ঘটনায় আন্তর্জাতিক ভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়। এসব ঘটনায় বোঝা যায়, মানব পাচার কেবল আইন শৃঙ্খলার সমস্যা নয় – এটি ক্যাম্পের মানবিক সংকটের গভীরতারও একটি বহিঃপ্রকাশ।

    স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর বাড়ছে চাপ
    রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব গুলোর একটি পড়ছে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর। উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বাড়তি জনসংখ্যার চাপ, ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ, বাজার ব্যবস্থার পরিবর্তন, অবকাঠামোর অতিরিক্ত ব্যবহার এবং নিরাপত্তা জনিত উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
    বিশ্ব ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠী জেলার দরিদ্র ও সামাজিক ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর একটি অংশ। রোহিঙ্গা সংকটের কারণে সরকারি সেবা ও স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জীবিকা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সুযোগকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
    তবে স্থানীয় শ্রম বাজারে ঠিক ৪০–৫০ শতাংশ মজুরি কমেছে – এমন নির্দিষ্ট দাবি সাম্প্রতিক নির্ভরযোগ্য উৎসে নিশ্চিত করা যায়। ফলে শ্রম বাজারে প্রতিযোগিতা ও আয়-জীবিকার ওপর চাপের বিষয়টি তথ্যভিত্তিক ভাবে তুলে ধরা কঠিন।

    পরিবেশের ক্ষতিও দীর্ঘস্থায়ী
    ক্যাম্প স্থাপনের ফলে পাহাড় কাটা, বন উজাড়, পানির ওপর চাপ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ভূমিক্ষয়ের সমস্যা কক্সবাজারে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করেছে।
    বিশ্ব ব্যাংকের নথিতে বলা হয়েছে, ক্যাম্পের সম্প্রসারণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অন্যান্য মানবিক কর্মকাণ্ড কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে পানি, পয়োনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও ঘাটতি রয়েছে।
    বর্ষা মৌসুমে এই পরিবেশগত দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত হয় পাহাড়ধস ও বন্যার ঝুঁকি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে উখিয়ার একাধিক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারী বৃষ্টির পর ভূমিধসে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। কয়েক দিনের ব্যবধানে পৃথক ঘটনায় প্রাণহানি ক্যাম্পের ঝুঁকিপূর্ণ ভূপ্রকৃতি ও ঘনবসতির বাস্তবতাকে আবারও সামনে নিয়ে আসে।

    কমছে আন্তর্জাতিক সহায়তা, বাড়ছে অনিশ্চয়তা
    নয় বছর ধরে চলা সংকটে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও অর্থায়ন ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ২০২৫–২৬ সালের Joint Response Plan-এ ২০২৫ সালের জন্য প্রায় ৯৩৪.৫ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছিল, যার আওতায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে সহায়তার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
    ২০২৬ সালের মে মাসে জাতিসংঘ ও অংশীদাররা রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি চাহিদা পূরণে আরও ৭১০.৫ মিলিয়ন ডলারের আবেদন জানায়। অর্থায়নের ঘাটতি ইতোমধ্যে খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অন্যান্য জরুরি সেবায় চাপ তৈরি করছে।
    UNICEF-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে অর্থায়ন সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনাতেও সমস্যা তৈরি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সময়ে ২০২৪ সালের পর নতুন করে আসা এক লাখ ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও টিকাদান ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।

    প্রত্যাবাসন ছাড়া সংকটের স্থায়ী সমাধান নেই
    রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ বাংলাদেশে নয়, এর উৎপত্তি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে। ফলে ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার, মানব পাচার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা – এসব প্রয়োজনীয় হলেও কোনোটিই স্থায়ী সমাধান নয়।
    স্থায়ী সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন। কিন্তু রাখাইনে চলমান সংঘাত সেই সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ২০২৬ সালের আগস্টে মিয়ানমারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, রাখাইনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি যথেষ্ট উন্নত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু করা কঠিন।

    এখনই প্রয়োজন সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল
    নয় বছরের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, শুধু ক্যাম্পে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়ে সমস্যার পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন ক্যাম্প, সীমান্ত, উপকূল ও স্থানীয় জনপদকে একই নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় এনে সমন্বিত ব্যবস্থা।
    ক্যাম্পের ভেতরে নিয়মিত নিরাপত্তা নজরদারি, অপহরণ ও চাঁদাবাজি দমনে দ্রুত তদন্ত, সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়োগ ঠেকানো, মানব পাচার প্রতিরোধ, সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিযোগের দ্রুত প্রতিকার – এসব ক্ষেত্রে সরকারের সক্ষমতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। Joint Protection Monitoring-এর সুপারিশেও ক্যাম্পের ভেতরে আইনের শাসন জোরদার, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপস্থিতি বাড়ানো এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী সশস্ত্র ব্যক্তিদের শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
    একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা উন্নয়ন প্যাকেজ, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা অবকাঠামো, দুর্যোগ-সহনশীল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিবেশ পুনরুদ্ধার কর্মসূচি প্রয়োজন। কারণ রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা শুধু ক্যাম্পের মানুষের নয়, এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বহন করছে আশপাশের বাংলাদেশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীও।

    নয় বছর পর প্রশ্ন একটাই
    নয় বছর আগে যে সংকটকে সাময়িক মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হয়েছিল, তা এখন দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক সংকটে পরিণত হয়েছে। কক্সবাজারে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান, নতুন অনুপ্রবেশ, ক্যাম্পের অপরাধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি, মানব পাচার, মাদক ও সীমান্ত অপরাধ, পরিবেশের ওপর চাপ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি আর আগের পর্যায়ে নেই।
    বাংলাদেশ মানবিক কারণে বছরের পর বছর রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অনির্দিষ্টকাল এই পরিস্থিতি চালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাগতভাবে কতটা টেকসই – সেই প্রশ্ন এখন আরও জোরালো।
    তাই আগামী পর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু প্রত্যাবাসনের তারিখ নির্ধারণ নয়, বরং মিয়ানমারে নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার, পরিচয় ও জীবিকার নিশ্চয়তাসহ এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরে যেতে পারেন।
    নইলে শূন্য প্রত্যাবাসনের এই নয় বছর আরও দীর্ঘ হবে, আর কক্সবাজারের মানবিক সংকট ধীরে ধীরে পরিণত হবে একটি স্থায়ী নিরাপত্তা, পরিবেশ ও উন্নয়ন সংকটে এবং সৃষ্টি হবে স্থানীয় জনগোষ্টি ও রোহিঙ্গা দন্ধ, যা একসময় চরম আকার ধারন করতে পারে ।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST