বিশেষ প্রতিনিধি:–
বাংলাদেশের প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়-এ একের পর এক চুরির ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (‘লাল টেলিফোন’) সংযোগের তামার তার চুরি, এরপর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একান্ত সচিবের ব্যবহৃত ল্যাপটপ উধাও হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে প্রশাসনের সর্বস্তরে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এগুলো শুধুমাত্র সাধারণ চুরির ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানে ধারাবাহিক নিরাপত্তা ভঙ্গের ঘটনাগুলো গভীর অনুসন্ধানের দাবি রাখে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড বা লাল টেলিফোন সংযোগ সচল রাখতে ব্যবহৃত তামার তার কেটে চুরি করা হয়। পরে পুলিশের তদন্তে সচিবালয়ের এক আউটসোর্সিং কর্মী ও এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং চুরি হওয়া তারের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এ ঘটনার পেছনে সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে।
এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ১৬তম তলা থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ ল্যাপটপ চুরির ঘটনা। প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, ল্যাপটপটি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর একান্ত সচিব ব্যবহার করতেন।
সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে ব্যাগ নিয়ে ভবন ত্যাগ করতে দেখা গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে যদি অবাধ যাতায়াত, দুর্বল প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নজরদারির অভাব থাকে, তাহলে শুধু চুরি নয়, আরও বড় ধরনের নাশকতা বা তথ্য পাচারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
প্রশ্ন উঠছে—একটি ঘটনার তদন্ত চলমান থাকতেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ চুরির ঘটনা কীভাবে ঘটল? এটি কি কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধ, নাকি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পরিকল্পিত কোনো চক্র সক্রিয় রয়েছে?
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তদন্ত সংস্থা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বা নাশকতার উদ্দেশ্যের প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। তাই কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ব্যক্তিকে দায়ী করার আগে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষা করা জরুরি।
## জনমনে যে প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে:-
> সচিবালয়ের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা বলয় কতটা কার্যকর?
> গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে প্রবেশ ও বের হওয়ার পর্যাপ্ত নজরদারি আছে কি?
> চুরি হওয়া ল্যাপটপে কোনো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল কি না?
> লাল টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পেছনে শুধুই অর্থলাভের উদ্দেশ্য ছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যও ছিল?
> ধারাবাহিক এসব ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় কি না?
> প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণ :-
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রশাসনিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা শুধু সম্পদ রক্ষার বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তারও অংশ। তাই সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, নিরাপত্তা অডিট এবং দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিয়ে দেশ-বিদেশে প্রশ্ন আরও জোরালো হতে পারে।


