বরগুনা সংবাদদাতা:
বরগুনা সদর উপজেলার ২ নং গৌরীচন্না ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী গৌরীচন্না বাজার এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজারো মানুষ এই বাজারে কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে সমবেত হন। ফলে বাজারটি স্থানীয় অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, বছরের পর বছর ধরে বাজারের রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বাজারের মসজিদের পাশের সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে হাঁটুপানি জমে যায়। এতে পথচারী, ব্যবসায়ী, ক্রেতা, শিক্ষার্থী ও মুসল্লিদের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। জলাবদ্ধতা ও কাদার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজ সেবক জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব ও বরগুনা সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাড. আব্দুল ওয়াসী মতিন বলেন,
গৌরীচন্না বাজার এই অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই বাজারে আসা-যাওয়া করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা ও জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং মুসল্লিদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজারের এমন অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাই, গৌরীচন্না বাজারের রাস্তাঘাট দ্রুত সংস্কার, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। জনগণের ভোগান্তি লাঘব এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাজারের সার্বিক উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।”
বরগুনা জেলা ওলামা দলের সংগ্রামী সদস্য সচিব / গ্লোবাল এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি ও গৌরিচন্না বাজার কেন্দ্রীয় জামেমসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংবাদিক মাওলানা মোঃ আব্দুল মোতালেব জানান – সামান্য বৃষ্টিতেই মসজিদের উত্তর পাশের সড়কে হাঁটু পানি জমে মসজিদে আগত মুসুল্লিদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
বাজারটিতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হলেও রাস্তার বেহাল অবস্থার মধ্যে জনসাধারণের বাজারে আসা – যাওয়া করতে হয়। শুধু তাই নয় – ঐ কাঁদাযুক্ত ময়লা পানির মধ্যো দিয়ে শতশত ছাত্র / ছাত্রীদেরও স্কুলের একমাত্র প্রবেশ পথ দিয়ে বাধ্য হয়েই যাতায়াত করতে হয়। এছাড়াও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারনে বাজারে প্রবেশ পথের ফুটপাত দখল হওয়ায় রাস্তাটি সংকীর্ণ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরজমিন তদন্ত করে জরুরি সমস্যা সমাধানের দাবী স্থানীয় সচেতন মহলের ।
স্থানীয় সাংবাদিক ও ব্যাবসায়ী ডাক্তার মোঃ এনামুল হক ও সাংবাদিক মোঃ ইদ্রিস আলী জানান – বাজারের পশ্চিম পাশ্বের প্রবেশের রাস্তাটির অবস্থা আরো করুণ। জরুরি সংস্কার প্রয়োজন।
গৌরীচন্না বাজার কমিটির সভাপতি মোশাররফ হোসেন আলকাছ খান বলেন, “গৌরীচন্না বাজার শুধু একটি বাজার নয়, এটি আশপাশের বহু মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত রাস্তা সংস্কার, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ এবং স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন লিটন বলেন, “প্রতিদিন হাজারো মানুষের সমাগম হলেও বাজারের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের অভাব অত্যন্ত হতাশাজনক। একটি আধুনিক ও নিরাপদ বাজার গড়ে তুলতে দ্রুত উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করা জরুরি। বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মানুষের দুর্ভোগ লাঘব, নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে গৌরীচন্না বাজারের উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


