এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল সড়কটি কেবল একটি সাধারণ রাস্তা নয়, এটি প্রতিদিন হাজারো মানুষের জীবন-মরণের সাথে যুক্ত এক সংবেদনশীল ধমনী। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি পরিণত হয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ আর যানজটের এক স্থায়ী মরণ ফাঁদে। মুমূর্ষু রোগীবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্স যখন এখানে যানজটে আটকে থাকে, তখন শুধু সময় নষ্ট হয় না, একটি জীবন বিপন্ন হয়। পর্যটন রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির এমন মরণদশার পেছনে রয়েছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ও দখলদারদের আইন অমান্য করার মহোৎসব।
*নেই পার্কিং, সড়কেই গাড়ির মেলা*
অনুসন্ধানে দেখা যায়, হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় ১০-১২টি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং অর্ধশতাধিক দন্ত চিকিৎসালয় (ডেন্টাল ক্লিনিক) গড়ে উঠেছে। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, হাতেগোনা দু-একটি ছাড়া কোনোটিতেই কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ও পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী নিজস্ব পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। ফলে রোগী বহনকারী যানবাহন, চিকিৎসকদের গাড়ি এবং সাধারণ মানুষের বাহন গুলো প্রধান সড়কেই পার্কিং করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ওপর বিষফোড়ার মতো যুক্ত হয়েছে ফুটপাত দখল করে রাখা ভ্রাম্যমাণ হকারদের রাজত্ব।
কাগজেই সীমাবদ্ধ ‘কউক’ ও পৌরসভার আইন:- নকশা অনুমোদন এবং নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থা গুলোর কোনো নজরদারি নেই।
কউক-এর বিধিমালা:- কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, যেকোনো বাণিজ্যিক ভবন, বিশেষ করে হাসপাতাল বা ক্লিনিকের মতো জনাকীর্ণ প্রতিষ্ঠানের জন্য বাধ্যতামূলক ভাবে পর্যাপ্ত পার্কিং স্পেস (Parking Space) রাখতে হবে। পার্কিং ব্যবস্থা ছাড়া নকশা অনুমোদনের কোনো সুযোগ নেই। নকশা বহির্ভূত ভাবে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকানপাট বা অন্য কিছু নির্মাণ করলে স্থাপনা উচ্ছেদ, সিলগালা এবং বড় অঙ্কের জরিমানার স্পষ্ট বিধান রয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যে প্রায় ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার গুলোর পার্কিং জুড়ে গড়ে ওঠেছে ফার্মেসী ব্যবসা, যা দেখার কেউ নেই । এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষের ইমারত পরিদর্শক রামপ্রসাদ সরকার এর ০১৮৭০—০৬৮, আমজাদ হোসেন এর ০১৮৯৭—৪১৯ ও মো: শহিদুল ইসলামের ০১৭৪৭—৯৩০ মোবাইল নং এ প্রতিবেদকের পরিচয় প্রদান করে বক্তব্য চাওয়া হলেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নাই ।
পৌরসভা আইন:- স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, পৌর এলাকার রাস্তা ও ফুটপাত জনসাধারণের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার দায়িত্ব পৌরসভার। ফুটপাত দখল করে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানো সম্পূর্ণ অবৈধ।
আইন ও ক্ষমতা থাকার সত্বেও যথাযথ তদারকি ও নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানের অভাবে এই নিয়ম গুলো আজ কেবলই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসক মো: শামীম আল ইমরান এর ০১৮৯৪—০০২ মোবাইল নং এ প্রতিবেদকের পরিচয় প্রদান করে বক্তব্য চাওয়া হলেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নাই ।
কর্তৃপক্ষের জাগরণ প্রত্যাশা:-
কক্সবাজার কেবল একটি জেলা শহর নয়, এটি দেশের প্রধান পর্যটন রাজধানী। আর জেলা সদর হাসপাতাল সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের স্বাস্থ্যসেবার মূল কেন্দ্র। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা – কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভা দ্রুত নীরবতা ভেঙে জেগে উঠবে এবং আইন অমান্যকারী ক্লিনিক মালিক ও ফুটপাত দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি অ্যাকশনে যাবে। তবেই মুক্ত হবে ফুটপাত, দূর হবে যানজট; আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে জেলার সবচেয়ে সংবেদনশীল এই সড়কটি ।


