ফাহিম হোসেন রিজু
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
মলাটবন্দি বইয়ের ঘ্রাণ আর শব্দের বুননে বুঁদ হয়ে থাকা এক কিশোরীর নাম জান্নাতুন ফেরদৌসী। বয়স মাত্র ১৬, কিন্তু এই অল্প বয়সেই কবিতার জগতে নিজের এক স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন তিনি। উত্তরের জনপদ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর গ্রাম থেকে উঠে আসা এই কিশোরী কবি এখন এলাকার মানুষের কাছে এক বিস্ময় ও গর্বের নাম।
জান্নাতুন ফেরদৌসী বর্তমানে উপজেলার ওসমানপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নিজেকে সঁপে দিয়েছেন সাহিত্যের আঙিনায়। এ পর্যন্ত তার লেখনীর ব্যাপ্তি অবাক করার মতো। অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থ ও সংকলনে তার প্রায় ১৫০টি কবিতা স্থান পেয়েছে। শুধু তাই নয়, ৮ থেকে ১০টি একক ও যৌথ কাব্যগ্রন্থ ইতিমধ্যে পাঠকমহলে প্রশংসিত হয়েছে।
ঘোড়াঘাটের ওসমানপুর এলাকার কলেজপাড়ার বাসিন্দা জান্নাতুন। শৈশব থেকেই শব্দের প্রতি এক অদ্ভুত টান অনুভব করতেন তিনি। চারপাশের প্রকৃতি, জীবনবোধ আর দেশপ্রেম ফুটে ওঠে তার কলমে। তার পরিবার ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা তাকে এতো দূর এগিয়ে আসতে সাহায্য করেছে।
জান্নাতুন ফেরদৌসীর সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার বিদ্যাপীঠ ওসমানপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহপাঠীরা।
বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানান, “জান্নাতুন আমাদের বিদ্যালয়ের গর্ব। এই বয়সে তার সৃজনশীলতা সত্যিই বিরল। আমরা আশা করি সে একদিন জাতীয় পর্যায়ে বড় সাহিত্যিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।”
এত অল্প সময়ে এতগুলো কবিতা প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও জান্নাতুন মাটিতে পা রেখে চলতে পছন্দ করেন। তিনি জানান, কবিতা তার কাছে কেবল শব্দ সাজানো নয়, বরং মনের গহীন কথা প্রকাশের মাধ্যম। ভবিষ্যতে তিনি বাংলা সাহিত্য নিয়ে আরও উচ্চতর কাজ করতে চান এবং সমাজের অসংগতি ও মানবতার কথা তার লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরতে চান।
বর্তমানে দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি নতুন নতুন কবিতার পাণ্ডুলিপি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঘোড়াঘাটের এই খুদে কবি।
স্থানীয়রা মনে করছেন, সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে জান্নাতুন ফেরদৌসী একদিন দেশের সাহিত্যের মূলধারায় উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে জ্বলবেন।


