এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি হামলায় দুই রোহিঙ্গা নেতা নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের জন্য আলোচিত ‘নবী হোসেন গ্রুপ’-এর প্রধানের ভাইও রয়েছেন। এদিকে ক্যাম্প এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে এক সন্দেহভাজন পাকিস্তানি জঙ্গিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আধিপত্যের লড়াইয়ে প্রাণ গেল কামালের বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে উখিয়ার ৮-ইস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি’ (এআরএ) ও প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় উখিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও এআরএ প্রধান নবী হোসেনের ছোট ভাই মোহাম্মদ কামাল গুলিবিদ্ধ হন।
৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কামালকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
লক্ষ্যভ্রষ্ট নয়, টার্গেট কিলিং এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্যাম্প-৭ এলাকায় ‘টার্গেট কিলিং – এর শিকার হন কেফায়েত উল্লাহ হালিম নামের এক ব্যক্তি। তিনি ‘এআরও’ নামক একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতা ছিলেন। পুলিশ জানায়, মোটর সাইকেলে করে ফেরার পথে তরজ্জার ব্রিজ এলাকায় অজ্ঞাত অস্ত্রধারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মিয়ানমার ভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন ‘আরসা’ (ARSA) জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এই ঘটনায় আরও দুজন সাধারণ রোহিঙ্গা গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লস্কর-ই-তৈয়বা সন্দেহে আটক
ক্যাম্পের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। আটক ব্যক্তি পাকিস্তানি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন এর সদস্য বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ক্যাম্পের অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের বক্তব্য, উখিয়া থানার পুলিশ জানায়, পরপর দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্যাম্প জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, মরদেহ গুলো ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধী যে-ই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ ও এপিবিএন।
রোহিংগা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্যাম্প গুলোতে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের অনুপ্রবেশ এবং স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী গুলোর আধিপত্যের লড়াই কক্সবাজারের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।


