এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও পেশাগত অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত হয়েছে। ‘আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ, ক্ষমতায়িত নার্স জীবন বাঁচান’—এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে ১২ ই মে ২০২৬ ইংরেজি মঙ্গলবার সকালে বায়তুশ শরফ হাসপাতাল এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সকালে কক্সবাজার বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় হাসপাতাল চত্বরে এসে শেষ হয়। র্যালির উদ্বোধন করেন বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এম. এম. সিরাজুল ইসলাম।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “নার্সরা হচ্ছেন স্বাস্থ্যসেবার মেরুদণ্ড। তাঁদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যখাত আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। বিশেষ করে দক্ষ ও ক্ষমতায়িত নার্সরা জীবন বাঁচাতে যে ভূমিকা রাখেন, তার কোনো বিকল্প নেই। আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানে নার্সদের জন্য একটি আধুনিক ও সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
র্যালি শেষে হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে এক আলোচনা সভা ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কেক কেটে আয়োজনের সূচনা করেন বায়তুশ শরফ হাসপাতালের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এস. এম. কামাল উদ্দিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং বর্তমান চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থায় নার্সদের ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার শহীদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, “সেবার মানসিকতা নিয়ে নার্সরা যেভাবে দিনরাত কাজ করে যান, তা অতুলনীয়। তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর আমরা জোর দিচ্ছি ।” অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের অর্থ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন, অরবিস ইন্টারন্যাশনাল-এর কনসালটেন্ট মো. আখতার হোসেন, সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. মিশকাত জাহান নূর ও ডা. শারমিন জাহান। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম তদারকিতে থাকা সিনিয়র মাঠ কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ পাল এবং টেকনিক্যাল ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর জাহেদ আলম উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি উপলক্ষে হাসপাতালের পক্ষ থেকে কর্মরত নার্সদের শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র স্টাফ নার্স তৌফিক উল্লাহ খান। এছাড়া কিম চাকমা, রেশমি চাকমা, নেচারুল হক, জোবেদা খানম, মোছাদ্দেকা বেগম ও এমআইএস অফিসার সোলেন চাকমাসহ অন্য নার্সিং কর্মকর্তারা স্ব-স্ব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, রোগীর হাসিই তাঁদের কাজের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা নার্সিং পেশার মর্যাদা রক্ষা এবং নার্সদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পুরো অনুষ্ঠানটি এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সমাপ্ত হয়।


