নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপ এবং সরকারি দপ্তরে কর্মঘণ্টা কমানোর নির্দেশনার মাঝেও চরম উদাসীনতার চিত্র দেখা গেছে যশোর চাঁচড়াস্থ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) অফিসে। সরকার যখন বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য শপিংমল পর্যন্ত রাত ৮.০০ টায় বন্ধ ঘোষণা করছে, তখন এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়টিতে চলছে বিদ্যুতের অবাধ অপচয়।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, চাঁচড়া বিএডিসি অফিসের তিন তলায় দুটি আলাদা কক্ষে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর উপস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও একাধিক লাইট ও ফ্যান টানা চলছে। কক্ষগুলো ফাঁকা পড়ে থাকলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কারও কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এমন উদাসীনতায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যুৎ অপচয়ের এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএডিসি-র (পানি সাশ্রয়ী এবং পলিনেট হাউজ নির্মাণ প্রকল্প) উপসহকারী প্রকৌশলী আদনান আল বাচ্চু চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন,”এভাবেই হয়, তাতে সমস্যা কী”।একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মুখে এমন বক্তব্য বিদ্যুতের বর্তমান সংকটে সরকারের অপচয়বিরোধী অবস্থানের পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।
তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী (সেচ)যশোর সার্কেল যশোর আব্দুল্লাহ আল রশিদ বলেন, এভাবে তো হওয়ার কথা না, তাহলে সে অন্যয় করছে।
যেখানে সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে, সেখানে সরকারি দপ্তরের অভ্যন্তরেই তদারকির অভাবে এভাবে জাতীয় সম্পদের অপচয় ঘটছে।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি কার্যালয়গুলোতে অবিলম্বে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত অপচয় বন্ধে কঠোর নজরদারি ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।


