মোঃ হযরত আলী শান্ত, সাতক্ষীরা শ্যামনগর থেকে।।
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেন্জের নটাবেকী,পুষ্পকাঠি, হলদেবুনিয়া,কাঠেশ্বর ও দোবেকীর অভয়ারণ্য সংলগ্ন নদী ও খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অসাধু কিছু জেলে দ্রুত বেশি লাভের আশায় পানিতে বিষ মিশিয়ে মাছ ধরছেন, যার ফলে সুন্দরবনের স্পর্শকাতর বাস্তুতন্ত্র চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সাতক্ষীরা রেঞ্জের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকাই অভয়ারণ্য হওয়া সত্ত্বেও এই অবৈধ কার্যক্রমে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের জীবন মারাত্মকভাবে বিপন্ন হচ্ছে। জোয়ারের টানে বিষাক্ত পানি বনের গহীনে প্রবেশ করায় ম্যানগ্রোভ বনের শ্বাসমূলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।
এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে বনের ভেতরে মাছের প্রাপ্যতা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং অনেক দেশীয় প্রজাতি আজ বিলুপ্তির পথে। বিষমিশ্রিত পানি পান করার ফলে সুন্দরবনের বাঘ ও হরিণের মতো বন্যপ্রাণীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। সুন্দরবনের কর্মরত জেলে কাশেম মোড়ল বলেন,গোন চুক্তিতে বন অফিসগুলোকে উৎকোচ দিতে হয়,বনদস্যুদের চাদা প্রদানসহ বনবিভাগের কয়েকস্থরে গুন হয় মোটা অংকের টাকা, যার কারনে উক্ত উৎকোচের টাকা পোষাতে আমরা এধরনের কাজ করতে বাধ্য হই।
স্থানীয় জেলে মো. সোহেল জানিয়েছেন যে ক্ষতিকর এই উপায়ে মাছ ধরার কারণে সাধারণ মানুষের শরীরেও নানা ধরনের চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। এছাড়া বিষযুক্ত এসব মাছ বাজারে আসার ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ জিয়াউর রহমান সতর্ক করে জানিয়েছেন যে বিষ প্রয়োগে ধরা এসব মাছ খেলে মানুষের লিভার ও কিডনি অকেজো হওয়াসহ প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদ হাসান উল্লেখ করেছেন যে সাম্প্রতিক সময়ে বনের ৩৮২ প্রজাতির মাছের মধ্যে অনেক ঐতিহ্যবাহী প্রজাতি তীব্র সংকটে পড়েছে। বিগত কয়েক বছরে নদী ও খালে বিষ ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মৎস্যসম্পদের এই বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
সাতক্ষীরা রেন্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা এরফান হোসেন জানান যে বৈধভাবে মাছ ধরার অনুমতি থাকা এলাকায় বিষ প্রয়োগ রোধে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি চালানো হচ্ছে। অবৈধ এই প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। পাশাপাশি ফিশনেট প্রকল্পের মাধ্যমে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিংড়ির রেণু শিকার বন্ধে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।



