মোঃ আবদুল মোতালেব
নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:-
নোয়াখালীর সেনবাগে পিকআপ ভ্যানের বডির ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে আনা ৬২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সৈয়দ নুর (৩৩) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পিকআপের চালক মোঃ শাহেদ (৩৫) গাড়ি ফেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার চালানটির আনুমানিক বাজারমূল্য ১,৮৬,০০,০০০ (এক কোটি ছিয়াশি লক্ষ) টাকা এবং মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত নীল রংয়ের (POTON) মিনি ট্রাক, যাহার রেজিঃ নং- ঢাকামেট্রো – ১২-৭৫৮৪, হেল্পার এর ব্যবহৃত ০১৮৫৯৪৩২৪৬৭ আইটেল মোবাইলটি জব্দ করা হয়। এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত পিকআপের হেলপার সৈয়দ নূরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন গাড়ির ড্রাইভার মোঃ শাহেদ (৩৫) ও গাড়ীর মালিক মোঃ রবিউল আলম (৩২) সহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের সহযোগিতায় ও যোগসাজসে কক্সবাজারের টেকনাফ হতে সংগ্রহ করে নোয়াখালী চরজব্বর হয়ে নরসিংদী জেলায় পৌঁছে এই মাদক বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বলে স্বীকার করে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় সেনবাগ থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মোঃ আরিফ হোসেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৪ নভেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার সৈয়দ নুর কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার ৫ নম্বর নিলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিকদারপাড়া গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে মাদকের একটি বড় চালান নোয়াখালীর দিকে আসছে। এমন সংবাদের পর সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) হযরত আলী মিলনের নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আবদুল মান্নান, এসআই (নিরস্র) মোঃ আব্দুল সালাম,এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ নুরুজ্জামান ও সঙ্গীয় ফোর্সসহ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের সেনবাগ থানাধীন কাবিলপুর ইউনিয়ন সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসানো হয়। এ সময় সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।
এরই ধারাবাহিকতায় রাত সোয়া ১টার দিকে টেকনাফ থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যান থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে পিকআপের বডির ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ৬২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটের সন্ধান পায় পুলিশ। পরে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। এ সময় পিকআপে থাকা সৈয়দ নুরকে আটক করা সম্ভব হলেও গাড়ির চালক পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশের ধারণা, মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে পিকআপের বডির ভেতরে অভিনব কৌশলে ইয়াবার চালানটি লুকিয়ে পরিবহন করছিল। তবে এই চালানের সঙ্গে আর কারা জড়িত, কোথায় ইয়াবাগুলো সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল এবং এর নেপথ্যে কোনো সংঘবদ্ধ মাদক চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সেনবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার সৈয়দ নুরকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মোঃ আরিফ হোসেন বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
সেনবাগ থানা পুলিশের এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারকে মাদক পাচার প্রতিরোধে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখছে স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে পলাতক পিকআপচালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং মাদকের এই চালানের নেপথ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে অভিযান শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার।



