হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের মেয়ে উমা রানী পোদ্দার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থী সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৯৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। উমা রানীর শিক্ষাজীবন শুরু হয় গোবিন্দপুর প্রাইমারি স্কুল থেকে। পরে তিনি গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি এবং গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পড়ছেন। তার বাবা শ্রী অহল্লাল চন্দ্র পোদ্দার (বলাই) পেশায় কর্মকার শিল্পী, মা গৃহিণী। বাবা বলেন, “আমার মেয়ে সবসময়ই অধ্যবসায়ী ও পরিশ্রমী। তার এই সাফল্য আমাদের জন্য গর্বের। আশা করি সে আরও বড় অর্জন করবে। গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফাজুর রহমান খান বলেন, “উমা রানী সবসময় মেধাবী ও প্রতিভাবান শিক্ষার্থী ছিলেন। তার অধ্যবসায় ও সাংস্কৃতিক আগ্রহ তাকে এই সাফল্য অর্জনে সাহায্য করেছে। হোসেনপুর উপজেলা প্রশাসক ও নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বলেন, উমা রানীর এই সাফল্য প্রমাণ করে—সংকল্প ও পরিশ্রম থাকলে সীমাবদ্ধতাকে জয় করা সম্ভব। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়। তার অর্জন স্থানীয় শিক্ষার্থী ও যুব সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে।অর্থনৈতিকভাবে সীমিত সুযোগের মধ্যেও উমা গান, আবৃত্তি ও নাটকে সক্রিয় ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে প্রতিভা প্রকাশ করে আসছেন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে উমা বলেন, “ছোটবেলা থেকেই মানুষের জন্য কাজ করতে ভালো লাগত। পড়াশোনার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীমূলক কাজে যুক্ত থেকেছি। স্কুলে স্কাউট, কলেজে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ট্রেনিংয়ে প্রথম হয়ে কাজের সুযোগ পেয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে কাজের পরিধি আরও বেড়েছে। ডাকসু কেন্দ্রিক কোনো পরিকল্পনা ছিল না, কিন্তু অধিকার আদায়ে কথা বলতে গিয়ে অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। ডাকসু এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আমার কথার মূল্য আছে। সহপাঠীদের সমর্থন আমাকে সাহস দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এলাকাবাসীর জন্য কাজ করার পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই আছে। রাজনীতি করতে চাই না; তবে আমার এলাকার মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা এবং মৌলিক চাহিদা পূরণে কাজ করতে চাই, যদি সৃষ্টিকর্তা সহায় হন। আমার ও আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। উমা রানীর এই অর্জনে গোবিন্দপুরসহ পুরো হোসেনপুরের মানুষ গর্বিত।


