অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা:
ভাটির রানী খ্যাত কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের হাওরাঞ্চল একসময় প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ও জলজ সম্পদে সমৃদ্ধ ছিল। বর্ষা মৌসুমে সুবিশাল হাওর ও বিলজুড়ে ফুটে উঠত লাল, সাদা ও নীল শাপলা। তবে অনিয়ন্ত্রিত মানবসৃষ্ট হস্তক্ষেপ ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে ঐতিহ্যবাহী এই জলজ সম্পদ আজ বিলুপ্তির পথে মত বিশেষজ্ঞদের। পুরো হাওর ঘুরেও চোখে পড়ে না প্রস্ফুটিত শাপলার ফুল।
হাওরের ৭০ বছর বয়সী প্রবীণ রমজান মিয়াসহ একাধিক গ্রামবাসী জানান, একসময় এলাকায় চালের তীব্র সংকট থাকত। তখন গ্রামের মানুষ বর্ষার মাঝামাঝি সময়ে হাওর ও বিল থেকে মণ কে মণ শাপলার বীজ সংগ্রহ করত, যাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হতো বেট। এই বীজ শুকিয়ে ও প্রক্রিয়াজাত করে রাখা হতো এবং সারা বছর চালের সাথে মিশিয়ে ভাত রান্না করে গ্রামবাসী জীবন ধারণ করত। পাশাপাশি শাপলার গোড়ায় জন্মানো পুষ্টিকর শালুক ঘরে ঘরে খাদ্য চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজারেও বিক্রি হতো।
স্থানীয় বিদ্যালয়ের কৃষি বিষয়ক শিক্ষক তহুরুল ইসলাম জানান, ইরি-বোরো ধানের বিস্তার ও অতিরিক্ত ক্ষতিকারক কীটনাশক ব্যবহারের ফলে শাপলার বীজ ও মূল স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া ইজারাদাররা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাছ ধরার সময় সম্পূর্ণ বিল সেচে ফেলায় পানির তলদেশের বীজ ও কন্দ শুকিয়ে ধ্বংস হয়, যা পরবর্তী বর্ষায় আর গজাতে পারে না। শাপলা ও এর কন্দ কমে যাওয়ায় শুধু মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও জীবিকাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, বরং দেশীয় মাছের ডিম পাড়ার নিরাপদ স্থান এবং জলচর পাখির আশ্রয়স্থল বিনষ্ট হচ্ছে।
তিনি আরও জানান হাওরের নির্দিষ্ট বিলগুলোকে জলজ উদ্ভিদ অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা। কন্দ ও বীজ রক্ষায় মৎস্য আহরণের সময় বিলের সম্পূর্ণ পানি সেচা কঠোরভাবে আইনি দ-নীয় করা। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে হাওরে ঐতিহ্যবাহী দেশীয় শাপলা, বেট ও শালুকের বীজ পুনোরোপণের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।


