মোঃ মাসুম বিল্লাহ্ বরগুনা:
বরগুনার বামনা উপজেলার এক প্রবাসী মা অভিযোগ করেছেন, আদালতের আদেশে জিম্মায় ফিরে পাওয়া তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে পুনরায় অপহরণ করা হয়েছে। এ সময় তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করা হয় এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শনিবার বামনা আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বামনা উপজেলার পূর্ব সফিপুর গ্রামের বাসিন্দা মোসা. সুলি আক্তার। তিনি জানান, তিনি প্রায় ১৮ থেকে ২০ বছর এবং তার স্বামী প্রায় ৩০ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। প্রায় দুই বছর আগে দেশে ফিরে তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে ফারহানা আক্তার সুমাইয়া (১৪)-কে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। সুমাইয়া বামনা আসমাতুন্নেসা পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রায় তিন মাস আগে একই উপজেলার পূর্ব সফিপুর গ্রামের শাহারিয়ার রাফি বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তার মেয়েকে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তিনি বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই মেয়েটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করলে প্রথমে তাকে নিরাপদ আবাসনে পাঠানো হয়। পরে গত ১২ জুলাই ২০২৬ আদালত মেয়েটিকে তার মায়ের জিম্মায় প্রদান করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ওইদিন দুপুরে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মেয়েকে নিয়ে সিএনজিযোগে বরিশাল হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাটামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কয়েকজন তাদের পথরোধ করে।
তার দাবি, শাহারিয়ার রাফির নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়ে জোরপূর্বক মেয়েকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে তাকে সিএনজি থেকে টেনে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে আঘাত করা হয় এবং তার স্বামীকেও মারধর করা হয়।
এ সময় তার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ব্যাগে থাকা ৯টি পাসপোর্ট, নগদ ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, প্রায় ১৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন।
আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। এ ঘটনায় মির্জাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুলি আক্তার বলেন, “আদালতের জিম্মায় ফিরে পাওয়া আমার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে আমার বুক থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি আমার মেয়ের নিরাপদ উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তিনি প্রশাসনের কাছে অপহৃত কিশোরীকে দ্রুত জীবিত উদ্ধার, হামলা ও অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার, ছিনিয়ে নেওয়া মালামাল উদ্ধার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শাহারিয়ার রাফি বামনা উপজেলা ছাত্রদলের অর্থবিষয়ক সম্পাদক।
এ বিষয়ে বামনা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি বলেন, “বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে শুনেছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাহারিয়ার রাফির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া মামলার তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


