সিরাজুল ইসলাম, কক্সবাজার থেকে//
বিতর্কিত বর্ধিত উৎসকর অবশেষে বাতিল করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের সদস্য এ.কে.এম বদিউল আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
গত ২৪ জুন জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) ও জেলা সদরের পৌর এলাকার অধীনে থাকা ৮১টি মৌজায় জমির দলিল নিবন্ধনের সময় নাল জমিতে প্রতি শতক ২৫ হাজার টাকা এবং আবাসিক বাড়ির জমিতে শতকপ্রতি ৫০ হাজার টাকা হারে উৎসকর আরোপ করা হয়। সর্বনিম্ন ২৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত এই করহার কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
এর ফলে দলিল নিবন্ধন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ, আইনজীবী, নোটারি, দলিল লেখকসহ সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অযৌক্তিক আর্থিক চাপে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। জমি ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি হয়, এমনকি হস্তান্তরের অনুমতি নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত জটিলতার মুখে পড়েন।
কর বৃদ্ধি নিয়ে কক্সবাজারে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি, ভুক্তভোগী ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই একযোগে দাবি তোলেন—এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, অবাস্তব ও বেআইনি। জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত আবেদনও জমা পড়ে
জেলা রেজিস্ট্রার ১৩ আগস্ট মহাপরিদর্শক (নিবন্ধন)-এর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। পরে মহাপরিদর্শক ২০ আগস্ট এনবিআর চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠি দেন। আবেদনে বলা হয়, কক্সবাজারের বিস্তৃত অঞ্চল—যার মধ্যে সোনাদিয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, সেন্টমার্টিনের মতো অনুন্নত ও প্রত্যন্ত এলাকা রয়েছে—এসব জায়গায় রাজধানী বা চট্টগ্রামের মতো উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সমপর্যায়ের উৎসকর আরোপ বাস্তবতা বিবর্জিত।
সব পক্ষের মতামত ও আপত্তি বিবেচনায় নিয়ে অবশেষে এনবিআর সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে বর্ধিত উৎসকর প্রত্যাহার করে। ফলে কক্সবাজারে জমি হস্তান্তর ও দলিল নিবন্ধনের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হওয়ার পথ সুগম হলো।
২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির এক গেজেটে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়। সেখানে ৮টি উপজেলার ১৮৮টি মৌজার মধ্যে ৮১টি মৌজাকে কউকের নিয়ন্ত্রণাধীন ঘোষণা দেওয়া হয়। মোট ৬৯০.৬৭ বর্গকিলোমিটার এলাকার ওপর এই করহার আরোপ করা হয়। কিন্তু স্থানীয় সচেতন মহল যুক্তি দেন, পর্যটন বিকাশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণের নামে পুরো এলাকার ওপর সমান হারে উচ্চ কর বসানো ছিল অযৌক্তিক এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির বদলে তা উল্টো রাজস্ব আদায় কমিয়ে দিয়েছে
এনবিআরের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কেটে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে জমি ক্রয়-বিক্রয়ে জড়িত সাধারণ মানুষের মধ্যে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যে, “এটি সাধারণ মানুষের জয়ের প্রতীক, তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বাস্তবতা যাচাই করা জরুরি


