মোঃ আবু তৈয়ব, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম, (প্রতিনিধি) :
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী কর্তৃক পবিত্র কুরআনের অবমাননার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন দেশের প্রবীণ বরেণ্য আলেমে-দ্বীন এবং জামিয়া আহলিয়া দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার শায়খুল হাদীস হযরত আল্লামা শেখ আহমদ (দা.বা.)।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন মুসলমানের প্রাণ, মুসলমানের হৃদয়ের কেন্দ্রবিন্দু। এই মহান গ্রন্থের অবমাননা মানে ইসলাম ও মুসলিম জাতির হৃদয়ে ছুরি চালানোর সামিল।
তিনি বলেন, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অপূর্ব পাল কর্তৃক কুরআন অবমাননার জঘন্য ঘটনা শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের ঈমানি চেতনাকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।
আল্লামা শেখ আহমদ (দা.বা.) আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, ওই শিক্ষার্থী নিজেই তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) অবমাননাকর ভিডিও প্রচার করেছে, যা তার উদ্দেশ্যকে আরও ঘৃণ্য করে তুলেছে। এটি নিছক অজ্ঞতা নয়, বরং সচেতনভাবে, পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত এক ধর্মীয় অপরাধ।
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আমরা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার কঠোরতম নিন্দা জানাই এবং সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি- এই অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন সাহস করার দুঃসাহস না পায়।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মানবজাতির হিদায়াত, ন্যায়বিচার ও শান্তির চিরন্তন দিশারি। যে সমাজ কুরআনের মর্যাদা রক্ষা করে না, সে সমাজ আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়। সুতরাং, এই অবমাননাকে হালকাভাবে নেওয়া দুনিয়া-আখিরাত উভয় জাহানেই ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
শায়খুল হাদীস আল্লামা শেখ আহমদ (দা.বা.) বলেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। এখানে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। কিন্তু কিছু কুচক্রী ও ধর্মবিরোধী মহল এই সম্প্রীতি ধ্বংসে বারবার ষড়যন্ত্র করছে। নর্থ সাউথে সংঘটিত এই ঘটনা সেই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রেরই অংশ হতে পারে। বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে উন্মুখ গোষ্ঠিরও এতে ইন্ধন থাকতে পারে।
তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন-হাদীস ও ইসলামের মর্যাদাকে নিরাপদ রাখাসহ ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় রাষ্ট্রকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। ধর্ম অবমাননার মতো অপরাধের বিচার যদি বিলম্বিত হয় বা উপেক্ষিত থাকে, তবে তা সামগ্রিক সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে দিতে পারে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ জোরদার করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। পাশাপাশি ধর্ম অবমাননা রোধে কার্যকর ও কঠোর আইন প্রণয়ন এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ইসলামী মূল্যবোধবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া জাতির স্থিতি ও ঐক্য রক্ষা সম্ভব নয়।
বিবৃতির শেষ পর্যায়ে আল্লামা শেখ আহমদ (দা.বা.) বলেন, আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি—তিনি যেন মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আনুগত্যে দৃঢ় রাখেন এবং ইসলামবিরোধী অপচেষ্টা থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করেন।



