ফাহিম হোসেন রিজু, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠতেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন লেপ-তোষক তৈরির কারিগররা। হেমন্তের বিদায় আর কার্তিকের শুরুতেই এলাকাজুড়ে বইতে শুরু করেছে শীতল হাওয়া। শেষ রাত থেকে ভোর পর্যন্ত হালকা ঠান্ডা ও কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ যেন শীতের আগমন আরও বাস্তব করে তুলেছে।
দিনে রোদের তাপ থাকলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশার পর্দা নেমে আসছে। দেশের উত্তরের জনপদ দিনাজপুরে হেমন্ত শেষ হওয়ার আগেই ‘শীতের বুড়ি’ যেন প্রকৃতিতে জবরদখল করে নিচ্ছে। এ অবস্থায় উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রির জন্য লেপ-তোষক তৈরি ও মজুদের কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কারিগররা।
সরেজমিনে জানা গেছে, কাপড় ও তুলার মানভেদে লেপ-তোষকের দাম নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে ৪ থেকে ৫ হাত লেপ-তোষক ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লেপ তৈরির জন্য কারিগররা মজুরি পান ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। তবে কাপড় ও তুলার দাম বাড়ায় এ বছর লেপ-তোষকের দামও কিছুটা বেশি। তারপরও চাহিদার কমতি নেই, বরং বাড়ছে দিন দিন।
শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় রাত ১০টার পর থেকে সকাল পর্যন্ত কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকেই কুয়াশা পড়ছে। এ অবস্থায় গরম কাপড় ছাড়া রাতে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে অনেকেই নতুন লেপ-তোষক তৈরি করে নিচ্ছেন। স্থানীয় রীতি অনুযায়ী, নতুন মেয়ের জামায় শীত এলেই লেপ-তোষক দেওয়ার প্রচলন থাকায় বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী লেপ-তোষক তৈরির দোকান। কারিগর বিপ্লব জানান, “এ বছর শীতের তীব্রতা শুরু থেকেই একটু বেশি। তাই গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর কাজের চাপ অনেক বেশি। প্রতিদিনই লোকজন বাড়িতে ব্যবহারের জন্য লেপ-তোষক তৈরি করতে আসছেন।”
ঘোড়াঘাট উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি লেপ-তোষক তৈরির দোকান রয়েছে। এসব দোকানের কারিগররা এখন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন।



