মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে সংঘটিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে কারাবন্দী ৭ জন আসামীর অবিলম্বে জামিন ও মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সর্বস্তরের এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০ ঘটিকায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে চত্বরে মানববন্ধনে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে একটি সালিশকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ৭ জনকে আসামি করা হয়। আবেদনকারীদের দাবি, ঘটনায় আইনজীবীরা সম্পৃক্ত থাকায় জেলার কোনো আইনজীবী অভিযুক্তদের পক্ষে আদালতে দাঁড়াতে বা আইনি সহায়তা দিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম আইনি সহায়তা থেকেও বঞ্চিত রয়েছেন। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে আবেদন করা হলেও এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. তরিকুল আলম মোল্লা, প্রভাষক হুমায়ুন কবির, সমাজসেবক ওবায়দুল ইসলাম, শিক্ষক মনিরুল ইসলাম, শরিফুল মণ্ডল ও শামসুজোহা মুকুলসহ অন্যান্যরা। আবেদনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কারাবন্দী ৭ জনের মধ্যে ৫ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকায় তাদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘ কারাবাসের কারণে তারা মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। পবিত্র ঈদুল আজহাও তাদের কারাগারে কাটাতে হয়েছে, যা পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে দাবি করা হয়। স্মারকলিপিতে কারাবন্দীদের পরিচয় তুলে ধরা হয়। তারা হলেন— মো. ইমাম হোসেন বাররু (৫০), মো. রমিন (২২), মো. আকিব (১৭), মো. কুইক আলী (১৭), মো. জিদান (১৬), মো. সিফাত আলী (১৬) এবং মো. পরশ (১৬)। উল্লেখিত মামলাটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা নং-৪২, তারিখ ১৮ মে ২০২৬, জি.আর. নং-২২৬/২০২৬ (নবাব) হিসেবে রুজু হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে জেলা প্রশাসকের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলা হয়, মানবিক বিষয়গুলো, বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি তদন্তপূর্বক কারাবন্দীদের দ্রুত জামিন ও মুক্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।


