ঢাকাMonday , 28 September 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • ঝুঁকিতে পর্যটন থেকে মেগা প্রকল্প: ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা কতটুকু? নেই ডুবুরি দল, টিটিএল ও আধুনিক সরঞ্জাম

    admin
    September 28, 2026 3:11 pm
    Link Copied!

    জেলা প্রতিনিধি
    কক্সবাজার

    সমুদ্র, পাহাড়, পর্যটন এবং মেগা প্রকল্প ঘিরে দ্রুত বদলে যাচ্ছে কক্সবাজারের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত চিত্র। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবকাঠামোর সম্প্রসারণ, মাতারবাড়ীতে ২×৬০০ মেগাওয়াটের আল্ট্রা সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্রবন্দরকেন্দ্রিক অবকাঠামো এবং মাতারবাড়ীতে ভূমিভিত্তিক এলএনজি টার্মিনালের মতো বড় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন স্থাপনা। একই সঙ্গে বাড়ছে পর্যটনকেন্দ্রিক বহুতল ভবন, হোটেল-মোটেল ও বাণিজ্যিক স্থাপনা।
    এমন বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠেছে – কক্সবাজারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ, সমুদ্র বা জলাশয়ে দুর্ঘটনা কিংবা বহুতল ভবনে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা কতটুকু?
    জেলার ফায়ার সার্ভিসের সাম্প্রতিক তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজারে এখনো স্থায়ী সরকারি ডুবুরি দল নেই। নেই টিটিএল (Turntable Ladder) গাড়ির মতো বহুতল ভবনে উদ্ধার কাজের বিশেষায়িত সরঞ্জামও। সমুদ্র ও জলাশয় ভিত্তিক উদ্ধার, উচ্চ ভবনে অগ্নি নির্বাপণ এবং বড় শিল্প বা জ্বালানি অবকাঠামোর দুর্ঘটনা মোকাবিলায় আধুনিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
    গত ২০ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভাতেও জেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    শুধু পর্যটন নয়, এখন মেগা প্রকল্পের জেলাও কক্সবাজার
    কক্সবাজারকে দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেখা হলেও জেলার অর্থনৈতিক গুরুত্ব এখন আরও বিস্তৃত। কক্সবাজার বিমান বন্দরের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবন ও রানওয়ে সম্প্রসারণের প্রকল্প রয়েছে। যা আগামী অক্টোবর মাসে উদ্ভোধনের অপেক্ষায় আছে । অন্যদিকে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে রয়েছে ২×৬০০ মেগাওয়াটের আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। মহেশখালীকে ঘিরে গভীর সমুদ্র বন্দর কেন্দ্রিক অবকাঠামো এবং ভূমি ভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নিয়েও সরকারি পর্যায়ে মহা পরিকল্পনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
    অর্থাৎ, কক্সবাজার এখন শুধু পর্যটনের জেলা নয়, বিমান, বিদ্যুৎ, বন্দর, জ্বালানি ও পর্যটন – সব মিলিয়ে কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে।
    এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জরুরি অগ্নি নির্বাপণ ও উদ্ধার সেবার সক্ষমতা বাড়ানোও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    সমুদ্রের শহরে নেই স্থায়ী ডুবুরি দল
    কক্সবাজারের সবচেয়ে বড় পর্যটন সম্পদ বঙ্গোপসাগর। প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক পর্যটক সমুদ্র সৈকতে আসেন। পাশাপাশি জেলার নদী, খাল ও জলাশয়েও রয়েছে পানিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
    কিন্তু জেলায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী পেশাদার ডুবুরি দল না থাকায় ছোট ও বড় ধরনের পানিতে দুর্ঘটনায় বাইরের উদ্ধারকারী দলের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান শুরু করতে সময় বাড়ে ।
    কক্সবাজারেই প্রশিক্ষিত ডুবুরি দল স্থায়ী ভাবে মোতায়েন করা গেলে পানিতে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হবে। এর সঙ্গে আধুনিক ডাইভিং স্যুট, পানির নিচে অনুসন্ধান ক্যামেরা, সোনার প্রযুক্তি ও দ্রুতগতির উদ্ধার নৌযান যুক্ত করা গেলে সক্ষমতা আরও বাড়বে।

    বহুতল ভবনে টিটিএল ছাড়া কতটা দ্রুত উদ্ধার সম্ভব?
    পর্যটন কেন্দ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে কক্সবাজার শহরে বাড়ছে বহুতল হোটেল, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন। এসব ভবনে অগ্নিকাণ্ড হলে উঁচু তলায় আটকে পড়া মানুষকে দ্রুত উদ্ধারে বিশেষায়িত যান প্রয়োজন হতে পারে।
    এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি সরঞ্জাম হলো টিটিএল গাড়ি। এর উঁচু মই ব্যবহার করে বহুতল ভবনের বিভিন্ন তলায় পৌঁছানো যায়। পাশাপাশি উচ্চক্ষমতার ওয়াটার মনিটরের মাধ্যমে দূর থেকে অগ্নি নির্বাপণেও সহায়তা পাওয়া যায়। কক্সবাজারের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বহুতল অবকাঠামো বিবেচনায় এ ধরনের আধুনিক যান যুক্ত করা গেলে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সক্ষমতা বাড়বে।

    বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে বাড়তি প্রস্তুতি জরুরি
    মাতারবাড়ীর ২×৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বড় শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামোয় অগ্নি ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষায়িত প্রস্তুতি প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এলএনজি টার্মিনাল ও বন্দর কেন্দ্রিক অবকাঠামো আরও বিস্তৃত হলে জরুরি সেবার ওপরও নতুন ধরনের দায়িত্ব তৈরি হবে। এসব স্থাপনার নিজস্ব অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনায় স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় করার সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।
    এ জন্য ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা চিহ্নিত করে নিয়মিত মহড়া, প্রশিক্ষণ এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বিত উদ্ধার পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

    বিমানবন্দরেও প্রয়োজন সমন্বিত জরুরি সেবা
    কক্সবাজার বিমান বন্দরের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের সঙ্গে বিমান চলাচল কেন্দ্রিক জরুরি সেবার গুরুত্বও বাড়ছে। যা আগামী অক্টোবর মাসে আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর হিসেবে উদ্ভোধনের অপেক্ষায় আছে ।
    বিমান বন্দর কেন্দ্রিক অগ্নি নির্বাপণ ও উদ্ধার ব্যবস্থার নিজস্ব প্রটোকল থাকলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা পার্শ্ববর্তী এলাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস সহ অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    উখিয়া-টেকনাফেও বাড়াতে হবে সক্ষমতা
    কক্সবাজার শহরের বাইরে উখিয়া ও টেকনাফেও জরুরি সেবার ওপর বাড়তি চাপ রয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের বসবাস, রোহিঙ্গা ক্যাম্প, পর্যটন কেন্দ্রিক স্থাপনা ও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এসব এলাকায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ফায়ার স্টেশন, অতিরিক্ত জনবল, আধুনিক যানবাহন এবং বিশেষায়িত উদ্ধার সরঞ্জাম যুক্ত করা গেলে দুর্ঘটনার পর সাড়া দেওয়ার সময় কমানো সম্ভব হবে।
    শুধু সরঞ্জাম নয়, প্রয়োজন বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ
    আধুনিক সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি করাও জরুরি। কক্সবাজারের বাস্তবতায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের জন্য— সমুদ্র ও জলাশয় ভিত্তিক উদ্ধার, ডাইভিং, বহুতল ভবন থেকে উদ্ধার, বিমান বন্দর ভিত্তিক জরুরি পরিস্থিতি, শিল্প ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অগ্নিকাণ্ড, জ্বালানি ও এলএনজি স্থাপনার জরুরি পরিস্থিতি এবং বন্দর ও জাহাজ ভিত্তিক অগ্নি নির্বাপণ । এসব বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত মহড়ার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

    প্রযুক্তি নির্ভর উদ্ধার ব্যবস্থার সময় এখন
    আধুনিক উদ্ধার কার্যক্রমে ড্রোন, পানির নিচে অনুসন্ধান ক্যামেরা, সোনার প্রযুক্তি ও জিপিএসনির্ভর কমান্ড ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
    কক্সবাজারের জন্য পর্যায়ক্রমে Water Drone, Sonar Camera, Underwater Search Equipment, আধুনিক ডাইভিং সরঞ্জাম, দ্রুতগতির উদ্ধার নৌযান ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা যুক্ত করা যেতে পারে।
    একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ, বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত জরুরি সাড়া দেওয়ার একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।

    এই মুহুর্তে কক্সবাজারে যে সক্ষমতা গুলো গুরুত্বপূর্ণ:- স্থায়ী ডুবুরি দল ও উদ্ধার নৌযান, টিটিএল ও আধুনিক উচ্চতায় উদ্ধার সরঞ্জাম, সমন্বিত অগ্নি ও জরুরি উদ্ধার প্রস্তুতি, শিল্প অগ্নিনির্বাপণ ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, মেরিটাইম ফায়ার ও রেসকিউ সক্ষমতা, বিশেষায়িত অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি মহড়া, দ্রুত উদ্ধার ও সমুদ্র নিরাপত্তা ও জনবল, স্টেশন ও আধুনিক সরঞ্জাম ।

    মেগা প্রকল্পের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলাতে হবে জরুরি সেবাও
    কক্সবাজারের উন্নয়ন এখন আর শুধু পর্যটন কেন্দ্রিক নয়। বিমান বন্দর, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও পর্যটন – সব মিলিয়ে জেলার অর্থনৈতিক গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতাও আধুনিক করা প্রয়োজন। কারণ বড় প্রকল্পের নিরাপত্তা শুধু প্রকল্পের নিজস্ব সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে না; বড় ধরনের দুর্ঘটনায় আশপাশের সরকারি জরুরি সেবার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই কক্সবাজারে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধিকে শুধু একটি দপ্তরের উন্নয়ন হিসেবে না দেখে পর্যটন, জননিরাপত্তা, শিল্প, বিদ্যুৎ, বন্দর, বিমান ও জ্বালানি নিরাপত্তার সমন্বিত অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
    কক্সবাজার যখন পর্যটন রাজধানীর পাশাপাশি মেগা প্রকল্প ও কৌশলগত অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে, তখন উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বাড়ানোই হতে পারে নিরাপদ কক্সবাজার গড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST