মোঃ সাইফুল ইসলাম বালিয়াডাঙ্গী ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি,
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ১ নং পাড়িয়া ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল আজহার (২০২৫- ২০২৬ সালের)ভিজিএফ (VGF) কর্মসূচির চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি সহায়তার আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে চাল বিতরণের জন্য স্লিপ দেওয়া হলেও অনেকেই সেই স্লিপ নিয়ে নির্ধারিত স্থানে গিয়ে চাল পাচ্ছেন না। ফলে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল আজহার ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ভিজিএফ এর কর্মসূচির আওতায় চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু ১ নং পাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাজকুমার ও ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ডন, ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী , ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম সহ এরং ইউনিয়ন পরিষদের গ্ৰাম পুলিশ সদস্যরাসহ এই চাউল বিতরণ অনিয়ম এ জরিত বলে জানা গেছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বহু উপকারভোগী দাবি করছেন, তাদের হাতে চাল নেওয়ার সরকারি স্লিপ থাকলেও বাস্তবে তারা চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের হাতে স্লিপ দেওয়া হয়েছে, অনেক অসহায় মানুষকে স্লিপ না দিয়ে নিজেরাই বস্তা বস্তা করে চাল নিয়ে যায় এবং স্লিপ গুলো পাইকদের কাছে বিক্রি করে দেয়। এবিষয়ে ১ নং পাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বী রুবেল গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলতে রাজি হয়নি। এবং ট্যাগ অফিস্যার ১১০ বস্তা চাল জব্দ করলে রফিকুল ইসলাম ইউপি সদস্য ও ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী ট্যাগ অফিস্যার ও গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে ও শালীন আচরণ ও অখট্ট ভাষায় গালিগালাজ এবং তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আক্রমন করার চেষ্টা করে। সরকারী ভিজিএফ এর চাউল এর বস্তার পরিষদে সভাকক্ষে তালা দিয়ে চাল বিতরণ অফ করে দেয়। গণমাধ্যম কর্মীরা ভিডিও ধারণ করতে গেলে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অফিস সহকারী রুহুল আমিন ও ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী গণমাধ্যম উপজেলা কর্মীদের উপর চড়াও হয়ে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করেন । ১ নং পাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বী রুবেল এর সাথে যোগাযোগ করা হলে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। স্থানীয় কিছু অসহায় মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে চাল নিতে গেলে বলা হচ্ছে চাল শেষ হয়ে গেছে বা পরে আসতে বলা হচ্ছে। এতে করে আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছি।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সঠিক তদারকির অভাব এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারের দরিদ্রবান্ধব এই সহায়তা কর্মসূচি যদি স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে প্রকৃত অসহায় মানুষই বঞ্চিত হবে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে দ্রুত চাল বিতরণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বরাদ্দ কতৃ আদিবাসীদের ভিজিএফ এর স্লিপ ও দেওয়া হয় নাই, ওই ওয়ার্ডের এক ভুক্তভোগী নাম বলতে অনিচ্ছুক তিনি জানান আমি নিজেও জানি না আমার ভোটার আইডি কার্ড কিভাবে তারা সংগ্রহ করেছেন এবং এরকম বিভিন্ন জনের ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করে নিজেরাই ভিজিএফ স্লিপ পাইকারদের কাছে বিক্রি করে দেয়।


