আনিসুর রহমান মানিক :পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত মশারি থাকলেও ভর্তি রোগীদের নিয়মিত তা দেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডের আলমারিতে মশারি রাখা থাকলেও কয়েকজন রোগীর বিছানায় তা নেই। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পাওয়ার পর নার্সরা আলমারি খুলে রোগীদের মশারি দেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি মশারি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কারণ ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়ানোর পর ওই মশার মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির শরীরে ডেঙ্গুর জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে ডেঙ্গু রোগীদের মশারির ভেতরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সোমবার দুপুরে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পাঁচজন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাদের বিছানায় মশারি দেওয়া হয়নি। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাদের মশারি দেওয়া হয়।
পঞ্চগড় পৌর শহরের রাজনগর এলাকার বাসিন্দা জুবায়ের হাসান ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর রোববার বিকেলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার দুপুর পর্যন্ত, অর্থাৎ ভর্তি হওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পরও তার বিছানায় মশারি ছিল না।
জুবায়ের হাসান বলেন, “গতকাল বিকেলে ভর্তি হয়েছি। এখন পর্যন্ত আমাকে কোনো মশারি দেওয়া হয়নি।”
বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী এলাকার ১৯ বছর বয়সী লিখন তেজগাঁও এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে ফেরেন। পরে রোববার তিনি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার দুপুরে তার বিছানাতেও মশারি দেখা যায়নি।
লিখন বলেন, “গতকাল ভর্তি হয়েছি। এখনো মশারি দেয়নি। আপনারা আসার পর মশারি দিয়েছে।”
এ বিষয়ে কর্তব্যরত নার্সদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার রিনা বেগম বলেন, ডেঙ্গু ওয়ার্ডে পর্যাপ্তসংখ্যক মশারি রয়েছে। রোগীদের মশারি না দেওয়ার বিষয়ে দায়িত্বে থাকা নার্স জানিয়েছেন, এটি “ভুল হয়েছে, আর হবে না”। বিষয়টি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে জানানো হবে।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন আফরোজা বেগম রিনা বলেন, ডেঙ্গু ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত পরিমাণ মশারি দেওয়া আছে। রোগীদের কেন মশারি দেওয়া হয়নি, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।


