রতন রায়: রিপোর্টার কুড়িগ্রাম।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ৫ নং ওয়ার্ড উত্তর ধনঞ্জয় ব্রিজের সংযোগ সড়কটি বন্যায় একপাশে ভেঙে যায়। বন্যার পানি সরে গেলেও আজও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই। ব্রিজের বিকল্প হিসেবে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে হাজারো পরিবার প্রতিদিন জীবনবাজি রেখে যাতায়াত করছেন। এ অবস্থায় যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়া বা পা পিছলে পড়ে যাওয়ার মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় আতঙ্কিত এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর ধনঞ্জয় ব্রিজটি বেলগাছা গ্রামকে মূল সড়কের সঙ্গে যুক্ত করার প্রধান সংযোগ। বন্যায় রাস্তাটির একাংশ ধসে যাওয়ায় গত বন্যার পর থেকে লোকজন বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করছেন। সাঁকোটিও এখন ঝুঁকিপূর্ণ—বৃষ্টি বা ভেজা অবস্থায় পিচ্ছিল হয়ে ওঠে, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
বেলগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী রিনা আক্তার (১০) বলে, “সাঁকো দিয়ে হাঁটতে খুব ভয় লাগে। কয়েকবার প্রায় পা পিছলিয়ে পড়ে গেছি।” অভিভাবক রহিম মিয়া বলেন, “সকালে শিশুদের স্কুলে পাঠাতে গিয়ে সারা দিন চিন্তায় থাকি।
এলাকাবাসী দাবি জানান, দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দ্রুত সংযোগ সড়কটি মেরামত করা হোক। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারি অর্থ বরাদ্দ না থাকায় তাদের পক্ষে কিছু করার নেই। এক স্থানীয় সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করেছি, কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি।”
এলাকার নির্বাচিত চেয়ারম্যানও বেশিরভাগ সময় এলাকায় অবস্থান করছেন না বলে জানা গেছে। ফলে সমস্যা সমাধানে স্থানীয় নেতৃত্বও অনুপস্থিত। বেলগাছা গ্রামের বাসিন্দা সাহানা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বন্যার সময় সাহায্য চাইলে নেতারা আসেন, কিন্তু সমস্যা সমাধানের সময় কেউ নেই।”
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে এ বিষয়ে একাধিকবার ফোন ও সরেজমিনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সেখান থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রকৌশলীর কর্মকর্তা ফোনReceive
করেননি,বার্তাও পাঠানো হয়নি।
স্থানীয় সুশীল সমাজ ও স্কুল শিক্ষকরা সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বেলগাছা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃশামসুন্নাহার বেগম বলেন, “প্রতিদিন ১০০-এর বেশি শিশু এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হয়ে স্কুলে আসে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায়ভার কে নেবে? আমরা জরুরি ভিত্তিতে এই সংযোগ রাস্তাটি মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।”
উল্লেখ্য, কুড়িগ্রাম বন্যাপ্রবণ এলাকা হওয়ায় এ ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতি অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু দ্রুত সাড়া না দেওয়ায় স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাচ্ছে। প্রশাসন যদি এখনই উদ্যোগ না নেয়, তবে সামান্য অবহেলায় প্রাণহানির মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।



