বরগুনা প্রতিনিধি//
বরগুনা সদর উপজেলাযর ৯নং এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের পালের বালিয়াতলী গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে হামিদা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী আবু জাফর ওরফে সোনা মিয়ার বিরুদ্ধে। বরগুনা থেকে মোঃ শাহজালাল এর প্রতিবেদন,,,,,,,
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ৯নং এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের পালের বালিয়াতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন।
খবর পেয়ে বরগুনা থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
যানা যায় প্রায় ১৫ বছর আগে পালের বালিয়াতলী গ্রামের রহিম খানের ছেলে আবু জাফর ওরফে সোনা মিয়ার সঙ্গে তালতলী উপজেলার ছোট বগী ইউনিয়নের ঠং পাড়া গ্রামের শাহজাহান হাওলাদারের মেয়ে হামিদা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আমেনা (১৪) ও আরিফা (৬) নামে দুইটি মেয়ে রয়েছে।
নিহতের স্বজনরা বলেন, হামিদার সাথে প্রায় ১৫ বছর আগে সোনা মিয়ার বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। পরে হামিদাকে সৌদি আরব পাঠানো হয়। হামিদা তিন বছর সৌদি আরব থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা দেয় সোনা মিয়াকে। কিছু দিন আগে হামিদা বাড়ীতে আসলে সোনা মিয়ার সাথে টাকা ও জমি জমা নিয়ে ঝামেলা হয়। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আবু জাফর ওরফে সোনা মিয়া হামিদাকে বেধড়ক মারধর করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে নিজেই স্ত্রীকে বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক হামিদাকে মৃত্যু ঘোষনা করে। হামিদার মৃত্যুর খবর শুনে সোনা মিয়া পালিয়ে যায়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ।ভক্সপপঃ নিহতের স্বজনরা।
এ বিষয়ে নিহতের পিতা শাহজাহান হাওলাদার বলেন, তিন বছর আমার মেয়ে সৌদি আরব থাকা অবস্থায় জামাইয়ের কাছে টাকা পয়সা পাঠায় জামাই আমার মেয়ের সব টাকা পয়সা আত্মসাৎ করছে। আমার মেয়েকে সোনা মিয়া লড়াইয়া লড়াইয়া মারছে। আমার মেয়ের সব টাকা নিয়া আমার মেয়েকে পিটাইয়া মেরে ফেলেছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।
ভক্সপপঃ নিহত হামিদা আক্তার পিতা শাহজাহান হাওলাদার
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ইয়াকুব হোসেন বলেন, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সটঃ মোঃ ইয়াকুব হোসেন অফিসার ইনচার্জ, বরগুনা।


