মোঃ শাহজালাল, বরগুনা থেকে।।
পৃথিবীর আলো দেখার পরপরই নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে এক নবজাতক। জন্মের পরপরই প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয় শিশুটিকে। তখনো কাটা হয়নি নাড়ি। শরীরজুড়ে ছিল অসংখ্য পিঁপড়া। কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে জীবিত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বরগুনার বামনা উপজেলার সোনাখালী গ্রামের ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সামনে ফজলুর দোকানের পেছনে নারিকেলগাছের পাশ থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখা নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফজলুর দোকানের পেছন থেকে ব্যাগের ভেতর শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান দোকানদার বাবুল। তিনি বিষয়টি স্থানীয় যুবক তারিফ হাওলাদারকে জানান। তারিফ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগের ভেতর শিশুর কান্নার শব্দ শুনে বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত কামরুজ্জামানকে জানান।
পরে কামরুজ্জামান স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগের ভেতর জীবিত নবজাতক দেখতে পান। তারিফ হাওলাদার ব্যাগটি খুলে শিশুটিকে বের করে কোলে তুলে নেন। এ সময় দেখা যায়, শিশুটির নাড়ি তখনো কাটা হয়নি এবং নাভির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরজুড়ে অসংখ্য পিঁপড়া জড়ানো ছিল।
পরে শিশুটিকে দ্রুত বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির নাড়ি কেটে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। চিকিৎসক জানান, শিশুটি মোটামুটি সুস্থ রয়েছে। চিকিৎসা শেষে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি। বর্তমানে উদ্ধারকারী তারিফ হাওলাদারের হেফাজতেই রয়েছে শিশুটি।
তারিফ হাওলাদার বলেন, শিশুটিকে এ অবস্থায় দেখে তিনি খুবই কষ্ট পেয়েছেন। তিনি শিশুটিকে নিজের বোনের মতো স্নেহ-মমতায় মানুষ করতে চান।
এদিকে, সদ্যোজাত একটি শিশুকে এভাবে ব্যাগের মধ্যে ফেলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যে শিশুটি পৃথিবীতে আসার পর মায়ের বুকের উষ্ণতা, নিরাপদ আশ্রয় ও ভালোবাসা পাওয়ার কথা, তাকে এভাবে পরিত্যাগ করা সত্যিই হৃদয়বিদারক।
স্থানীয়দের দাবি, শিশুটির পরিচয় ও তার জন্মদাতা মা-বাবার সন্ধান বের করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি শিশুটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা, পরিচর্যা ও আইনগত অভিভাবকত্ব নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সমাজের মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
শিশুটিকে কে বা কারা ব্যাগের মধ্যে রেখে গেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পাওয়া এই নবজাতকের জীবন যেন অবহেলা বা অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়ে—তার জন্য প্রশাসন, সমাজসেবা বিভাগ এবং মানবিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এখন জরুরি।
মোঃ শাহজালাল
বরগুনা।।


