মোঃ শাহজালাল, বরগুনা:
বরগুনার আমতলী উপজেলার সেকান্দারখালী খাল লিজ দেওয়ার পর খালসংলগ্ন সড়কটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খালের পাড় ভেঙে সড়কের বড় একটি অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও বড় বড় গাছ শিকড়সহ ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে রয়েছে। ফলে যেকোনো সময় সড়কটি ধসে পড়ে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার কারণে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ও পাড়ের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে। এর প্রভাবে সড়কের পাশের মাটি সরে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সড়কটির প্রায় অর্ধেক অংশই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয়রা জানান, সেকান্দারখালী খালটি শুধু মাছ চাষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, এলাকার পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। খালটি সংকুচিত বা কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আবুল কালাম আজাদ খালটি লিজ নিয়ে ব্যবহার করছেন। তবে খালটি কী প্রক্রিয়ায় লিজ নেওয়া হয়েছে, লিজের মেয়াদ কতদিন এবং এ বিষয়ে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এলাকার বাসিন্দারা আরও বলেন, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে এই পথ ব্যবহার করেন। সড়কের ফাটল দ্রুত সংস্কার করা না হলে এবং খালের পাড় রক্ষা করা না গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সম্পূর্ণ ধসে পড়তে পারে। এতে বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আমতলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিঠু মৃধা বলেন, ‘খাল ও সড়ক দুটিই এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাল ব্যবস্থাপনার কারণে যদি সড়ক ঝুঁকিতে পড়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। জনসাধারণের চলাচলের পথ কোনোভাবেই ঝুঁকির মধ্যে রাখা যায় না।’
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ইউনুস হাওলাদার বলেন, ‘যে কোনো মূল্যে আমরা খালটি লিজের আওতা থেকে মুক্ত করার পক্ষে। খালের কারণে যদি সড়ক ভেঙে যায়, তাহলে আমাদের যাতায়াতের বড় সমস্যা হবে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে এসে পরিস্থিতি দেখুক এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিক।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মোঃ আবুল কালাম আজাদ এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় খাল লিজ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। খালটি তিনি বৈধ প্রক্রিয়ায় লিজ নিয়েছেন কি না, লিজের শর্ত মেনে ব্যবহার করছেন কি না এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ও সড়কের নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এসব বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার সময় খালপাড়ের সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন দেখা যায়। সড়কের পাশে থাকা বেশ কয়েকটি বড় গাছও ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনই নতুন করে মাটি সরে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
এ সময় শত শত এলাকাবাসী খাল লিজ বাতিল ও খালটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে স্লোগান দেন। তাদের দাবি, খালটির লিজ বাতিল করে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে দিতে হবে এবং একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করতে হবে।
এ বিষয়ে লিজগ্রহীতা মোঃ আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য তার বসতবাড়ি গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি এমনকি মুঠোফোনে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে খাল লিজের বৈধতা, লিজের শর্ত এবং খালপাড়ের সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে সড়কটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সেকান্দারখালী খালের পাড় ভাঙতে ভাঙতে একপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বড় অংশ খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। তখন শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, এলাকার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মোঃ শাহজালাল
বরগুনা।।


