ঢাকাSunday , 23 August 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • ৩ বছরেও শেষ হয়নি ভূমি অধিগ্রহণ: এক বছর ধরে ফাইল চালাচালিতে আটকে ৩০ কোটি টাকার সেতু

    admin
    August 23, 2026 4:18 pm
    Link Copied!

    বেবিয়ারা খাতুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
     
    চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পাগলা নদীর ওপর বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মইন উদ্দিন আহমদ মন্টু সেতুর নির্মাণ কাজ ৩ বছরেও শেষ হয়নি।চলতি বছরের নভেম্বরে সেতুটি কর্তপক্ষকে বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও এখনও ব্রীজের এ্যাপ্রেজ রোড এবং সেতুর ৪০ ভাগ কাজ বাকী। ৩৫ টি বাড়ির ভূমি অধিগ্রহন ও বর্ষার অজুহাতে এক বছর ধরে বন্ধ ৩০ কোটি টাকার সেতু নির্মানের কাজ। কাজ শুরুর দেড় বছরে অন্তত এ নিয়ে ৪ বার বন্ধ হয়েছে সেতুটির নির্মাণ কাজ। এতে উপজেলার তিন ইউনিয়নের মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। 

    জানা গেছে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার সর্ব উত্তর পশ্চিমের ৩ ইউনিয়ন মনাকষা,বিনোদপুর ও দুলর্ভপুরের চলাচলের একমাত্র রাস্তা শিবগঞ্জ বাজার থেকে পাগলা নদীর ব্রীজ হয়ে এ ৩ টি ইউনিয়ন। ১৪ অক্টোবর সেতুটির উদ্বোধন করেন সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল। ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১৪ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা। ১৭২.৩০০ মিটার সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৯৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩১৫ টাকা।

    এদিকে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নির্মাণধীন সেতুর পাশের বেইলি ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ব্রিজের প্রবেশমুখে ইটের পিলার বানিয়ে তিন বছর ধরে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এতে করে দুর্লভপুর ও মনাকষার ব্যবসায়ীরা পণ্য আনার জন্য ২০/৩০ কিলোমিটার ঘুরে কানসাট ব্রিজ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে বাড়ছে পরিবহন খরচ। সেই সঙ্গে সেতুটি জরাজীর্ণ, সরু ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সারাদিন যানজট লেগেই থাকছে। সেতুর স্টিলের পাটাতন কয়েক দফা ভেঙে পড়ে যাওয়ার পর মেরামত করে সেতুটি সচল রাখা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানে আসা ও যাবার সময় দুর্ভোগে পড়েন।সেতুটি পার হতে অপেক্ষা করতে হয়, ঘণ্টার পর ঘন্টা।বিশেষ করে পরীক্ষার সময় এ দুর্ভোগ আরো বাড়ে। নভেম্বরে ব্রীজের কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহন এবং বর্ষা মৌসুমের দোহায় দিয়ে এক বছর ধরে এর কাজ বন্ধ থাকায় বিপাকে ৩ ইউনিয়নের জনসাধারন। দীর্ঘদিনেও এর কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে। বেড়েছে দুর্ভোগ। অনেকের দাবী দায়ীদের আইনের আওতায় আনার।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরুর দিকেই নির্মাণে অনিয়ম হওয়ায় এলাকাবাসী বাধা দিয়েছিলেন। পরে তদন্ত করে অনিয়ম দূর করা হয়েছে। ৪৫ ভাগকাজ শেষের পর দ্বিতীয় দফায় নির্মাণ অতিবৃষ্টি এবং বন্যার কারণে বন্ধ ছিল। বন্যা পরবর্তী কাজ শুরুর পর ৬০ ভাগ কাজ শেষে বর্তমানে বন্ধ আছে জমি অধিগ্রহণ ও বন্যা জটিলতায়। 

    দুলর্ভপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: গোলাম আজম জানান, প্রশাসন বলছে সঠিক কাগজপত্র না থাকায় ভুক্তোভোগীরা কোন ক্ষতিপূরণ পাবেনা।আবার ভুক্তোভোগীদের দাবী তাদের সঠিক কাগজপত্র আছে। ভূমি মালিক দাবীকারী ও প্রশাসনের দীর্ঘসুত্রতার জন্য এ জনদুর্ভোগ। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় দুর্লভপুর, মনাকষা ও বিনোদপুর এ তিন ইউনিয়নের এক লাখ ১৫ হাজার ভোটারসহ সোয়া দুই লাখ জনগোষ্ঠীর  ব্যস্ততম এ সেতুটি নির্মাণে ধীরগতির কারণে জনগণের ভোগান্তি চরমে। দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা তার।

    সেতু নির্মানকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো: সাহিন আলম বলেন, টিকটকার সাংবাদিকরা গুজব ছড়াচ্ছে যে ঠিকাদার পালিয়ে গেছে।কিন্তু বন্যা,বৃষ্টি এবং ভূমি অধিগ্রহনের জন্যই আটকে আছে তাদের নির্মানের কাজ।

    সেতু নির্মাণের ঠিকাদার আব্দুল মান্নান সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদেও কোন গাফলতি নাই। উচ্ছেদের বিষয়টি সুরাহা দ্রুত হলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ হবে।

    দুর্লভপুরের মুদি দোকান মালিক শাহিন আলী জানান, শিবগঞ্জ বাজার থেকে তার দোকানের দুরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার হলেও ট্রাকে করে পণ্য আনার জন্য ৩০ কিলোমিটার ঘুরতে হয়। এতে তার পরিবহন খরচ বাড়ছে।
     
    মনাকষার বাকরুলী বিশ্বনাথপুর গ্রামের হারুন অর রশিদ জানান, তিনি জরুরি কাজে জেলা শহরের যাওয়ার জন্য পাগলা নদীর বেইলি ব্রিজে জ্যামের কারণে আধা ঘণ্টা আটকে থাকার পর ২ কিলোমিটার পায়ে হেঁটেই শিবগঞ্জ শহর চলে আসেন। ততোক্ষণে যার সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা ছিল তিনি চলে গেছেন। তিনি বলেন, এই দুর্ভোগ শুধু তার একার নয়, তিন ইউনিয়নবাসীর নিত্যদিনের।

    শিবগঞ্জ সরকারী মডেল হাই স্কুলের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীও ভাষ্য সরু এবং এক লেনের জরাজীর্ণ সেতু হওয়ায় ২টি অটোরিক্সা ক্রস করতেই অনেক সময় আটকে যায়।এতে র্দীঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।অনেক সময় বিদ্যালয়ে সময় মত না যেতে পেরে বকা খেতে হয়।পরীক্ষার সময় যানজটের তীব্রতা আরও বেশি হয়।

    ভুক্তোভোগী বাড়ির মালিক সুমাইয়া খাতুনের দাবী তাদেও সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও প্রশাসন জমির মূল্য নিয়ে কথা বলছেনা।উল্টো তারা বছর খানেক আগে নোটিশ দিয়েই খালাস।তার দাবী একমাত্র মাথার গোঁজার ঠাই আমরা কিছুতেই হাতছাড়া করবনা।
    অপর নোটিশ প্রাপ্ত বাড়ির মালিকের দাবী, অনেক কষ্টে তাদের বানানো বাড়ির নায্য ক্ষতিপূরণ না পেলে তারা একচুলও সরবেন না।

    সেতুর দুই দিকের জমি অধিগ্রহণ ও বাড়ি উচ্ছেদের ব্যাপারটি প্রক্রিয়াধীন। শিগগিরই উচ্ছেদ সম্মন্ন হবে এবং যথাসময়ে সেতুর কাজ শেষ হবে।

    শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো: সাহিনুল ইসলাম বলেন, বর্ষার কারনে সেতুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাঝের পিলারের কাজ বন্ধ আছে।তবে এসময়ে সেতুর দু’পাশের এ্যাপ্রোজ সড়কের কাজটি হয়ত করা যেত।কিন্তু জমি অধিগ্রহনের কাজ এখনও শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছেনা। সেতুর দুই দিকের জমি অধিগ্রহণ ও বাড়ি উচ্ছেদের ব্যাপারটি প্রক্রিয়াধীন। আশা করি, শিগগিরই উচ্ছেদ হবে এবং যথাসময়ে সেতুর কাজ শেষ।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST