জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ আর দশটি পিকআপের মতোই। মহাসড়কের নিয়মিত চেকপোস্টে থামানোর পর তল্লাশি চালায় পুলিশ। প্রথম দফায় সন্দেহ জনক কিছু না মিললেও চালক ও সঙ্গীর ইতস্তত ব্যবহারে খটকা লাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের। এরপর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চালকের আসনের নিচে বিশেষ কায়দায় বানানো গোপন চেম্বার থেকে উদ্ধার করা হয় অস্ত্র ও মাদকের বিশাল চালান।
বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১-৩০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলাকায় এই অভিযান চালায় লোহাগাড়া থানা-পুলিশ। চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জ বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনের চেকপোস্টে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালামের ছেলে তারেকুল ইসলাম (২৮) এবং একই গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে রাশেদুল ইসলাম রুবেল (৩৬)।
পুলিশ জানায়, চুনতি এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনাকালে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামমুখী একটি পিকআপ থামালে দুই যুবকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিটের নিচের চেম্বার থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ৭.৬৫ মিমি একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, ১৩ রাউন্ড গুলি ও ২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা টাকার বিনিময়ে এই চালানটি বহন করছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই চালানের মূল হোতা এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


