রতন রায়: কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি , ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬:
উত্তর জনপদের অর্থনৈতিক সূচকে অনগ্রসর জেলা কুড়িগ্রাম। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, ধরলাসহ ১৬টি নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত এ জেলায় প্রায় ২৬ লাখ মানুষের বাস। ৯টি উপজেলায় রয়েছে প্রায় ৪ শতাধিক চর। কুড়িগ্রাম শহরে নানা পেশার প্রায় ৫ লাখ মানুষের বসবাস। শিশুদের সুস্থ বিনোদন ও মানসিক বিকাশের কথা বিবেচনায় পার্কবিহীন এ শহরে জেলা পরিষদ নিজস্ব ৭৩ শতাংশ জমির উপর ডায়াবেটিস হাসপাতাল-সংলগ্ন এলাকায় শিশুপার্ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। স্থানীয় অধিবাসীরা জেলা পরিষদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২ কোটি ৮৯ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ পার্কটির টেন্ডার আহ্বান করা হয় ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে। শিশুপার্কটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সুন্দর ও নান্দনিক ডিজাইনের পার্কটিতে রয়েছে সুইং চেয়ার, মিনি ইলেকট্রিক ট্রেন, অ্যাডভান্সার কার, মেরি-গো-রাউন্ড, জেড কোস্টার, ওয়ান্ডার হুইল, বাউন্সিং রাইড, হাতে চালিত রকার, শিশুদের খেলার মাঠ, চারপাশে সোলার স্ট্রিট লাইট, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, সুন্দর ও আধুনিক গেট এবং দেয়ালে শিশুদের ছবিসহ বাচ্চাদের উপযোগী নানা শ্লোগান। এসব ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর নজর কেড়েছে।
জেলা পরিষদ অফিস সূত্রে জানা যায়, পার্কটির নির্মাণকাজ শেষ হবে আগামী ৩০ অক্টোবর ২০২৬ সালে। শিশুপার্কটির নির্মাণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, “শিশুপার্কের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। হস্তান্তরের আবেদন এখনো করিনি। আশা করছি, ৩০ অক্টোবরের আগেই হস্তান্তর করতে পারব।”
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, পার্কটি হস্তান্তরের আবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডিসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রকৌশলীদের নিয়ে জেলা প্রশাসন একটি শক্তিশালী পরিদর্শন টিম গঠন করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট টিমকে সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে পত্র প্রদান করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে এবং পার্কের সব কাজ সমাপ্ত হলে স্থানীয়দের চাহিদার কথা মাথায় রেখে খুব শীঘ্রই পার্কটি উদ্বোধন করা হবে। পার্কটি চালু হলে শিশুদের মানসিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।
পাশাপাশি রৌমারী ৪-তলা ডাকবাংলো হস্তান্তরের আবেদন পাওয়া মাত্রই একইভাবে পরিদর্শন টিম গঠন করে দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ এ বিষয়ে জানান, কুড়িগ্রামে অন্য কোনো পার্ক না থাকায় এ শিশুপার্কটি দ্রুত খুলে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হস্তান্তরের আবেদন করলে, এলজিইডিসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের পরিদর্শন প্রতিবেদন হাতে পেলে এবং সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অতি শীঘ্রই কুড়িগ্রামবাসীর জন্য এ পার্কটি উন্মুক্ত করা হবে।


