বিশেষ প্রতিনিধি :
জেলা গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ফরিদপুর থানা হস্তান্ত করা পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে নাম পাওয়া যায় ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও সাবেক বস্কিত নেতা জহুরুল ইসলাম (বকুল)। সেই কমিটির ৪৯ নং সদস্য হিসেবে তার নাম পাওয়া যায়।
বিষয়টি জানাজানির পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ দেখা দেয়। ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান দুই বারের বহিষ্কৃত নেতা জহিরুল ইসলাম (বকুল) ফরিদপুর উপজেলার বৃলাহিড়ীবাড়ী ইউনিয়ন আরকান্দি গ্রামের প্রয়াত আঃ জব্বারের ছেলে।
অভিযোগ আছে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলের নির্দেশ অমান্য করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, বিপুল ভোটে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীর কাছে।
উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করে জানান, খুনি শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিএনপি নেতা জহুরুল ইসলাম বকুল সব ধরনের সুযোগ সুবিধা নিয়েছে এবং কি তিনি গ্রেপ্তার পর্যন্ত হয়নি। এবং কি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাহিদ তুহিন এর হারার পিছনে রয়েছে জহুরুল ইসলাম (বকুল) নাম।
এ বিষয়ে ফরিদপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ফয়েজ উদ্দিন মৃধা কে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন…আমি এখন ব্যস্ত আছি পরে কথা বলি।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান জিয়া চেয়ারম্যান বলেন বিষয়টি আমরা অনেকের কাছে শুনতে পেরেছি এবং কি বিভিন্ন ফেসবুক সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি হচ্ছে,তার বেশি আমি কিছু বলতে পারব না।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি জহুরুল ইসলাম ( বকুল) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন হাঁ এটা আমি জানি এবং দেখছি,আর এটা যে কিভাবে আসলো আল্লাহ জানে, আর গোয়েন্দার লোকেরা জানে। হয়তো কোন মিসটেক হইছে। এই দলের প্রতিষ্ঠাতা থেকে আমি রাজনীতির সাথে জড়িত। ৫ আগস্টের পরে আমাদের উপজেলা কমিটি নেই। যদি কমিটি হত তাহলে আমি সভাপতি বা আহবায়ক হতাম। আমার নামে বিগত সরকারের আমলে একাধিক মামলা আছে থানায়। তাই এটা কি মিসটেক নাকি কেউ ষড়যন্ত্র করে করেছে এটা একমাত্র আল্লাহ মাবুদ জানে।
উল্লেখযোগ্য জহুরুল ইসলাম (বকুল) এর আপন মামা বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও আপন ভাতিজা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হক পান্ত। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগের সুবিধা নিয়ে আপন ভাই বর্তমানে বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. কুদরত-ই-খুদা ২০২২ সালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থেকে পুলিশ সুপার (এসপি) পদে পদোন্নতি পান।
জহুরুল ইসলাম (বকুল) এর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার করা হয় । এছাড়াও এলাকার বিল চাঁদাবাজি ভূমি দস্যু সহ নানা অভিযোগ তার এই অপরাধের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই নেমে আসে নির্মম অত্যাচার । তাই তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দর কাছে এখন একটাই দাবি তদন্ত কমিটি গঠন করে আনি-তো অভিযোগের বিষয়ে সঠিক তদন্ত করা হোক।


