জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় কক্সবাজার জেলায় সামগ্রিক ফলাফলে বড় ধস নেমেছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জেলাটিতে এবার সাধারণ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৫৭.০৯ শতাংশ। ফলাফলের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ভালো করলেও মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের চিত্র অত্যন্ত হতাশা জনক।
শিক্ষা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে এবার পরীক্ষার জন্য সাধারণ বিভাগে মোট ১৮ হাজার ২২৩ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হয়েছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ হাজার ১২৮ জন; অনুপস্থিত ছিল ৯৫ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাস করেছে ১০ হাজার ৩৪৯ জন। অর্থাৎ জেলায় অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৭ হাজার ৭৭9 জন পরীক্ষার্থী।
জিপিএ-৫ অর্জনে এগিয়ে বিজ্ঞান
জেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৮৯৯ জন শিক্ষার্থী, যা উপস্থিত পরীক্ষার্থীর ৪.৯৬ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ৯২ শতাংশই বিজ্ঞান বিভাগের।
বিজ্ঞান: এ বিভাগে ৪ হাজার ৯৯৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে সর্বোচ্চ ৮৩২ জন (১৬.৬৬%)।
মানবিক: ৮ হাজার ৪৬৪ জন অংশ নিলেও জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২২ জন, যা উপস্থিত পরীক্ষার্থীর মাত্র ০.২৬ শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষা: ৪ হাজার ৬৭১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫ জন (০.৯৬%)।
অংশগ্রহণ ও ফলে এগিয়ে মেয়েরা
জেলায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের অংশগ্রহণের হার যেমন বেশি ছিল, তেমনই জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও তারা এগিয়ে রয়েছে। মোট ১০ হাজার ৬৭৪ জন ছাত্রী পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১১ জন। অন্যদিকে ৭ হাজার ৪৫৪ জন ছাত্র পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৮৮ জন।
ভোকেশনাল শাখার ভিন্ন চিত্র: শীর্ষ ও তলানিতে ভিন্ন উপজেলা
সামগ্রিক ফলাফলের হতাশার মধ্যে এসএসসি ভোকেশনাল শাখায় রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও মিশ্র চিত্র। জেলায় ভোকেশনাল শাখার স্কুল ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চমৎকার সাফল্য দেখিয়েছে, আবার কোনো কোনো স্কুল ব্যাপক ভাবে পিছিয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কক্সবাজার জেলার স্কুল ভিত্তিক ফলাফল ২০২৬ (ভোকেশনাল) একটি তালিকায় প্রকাশ করা হয়েছে ।
শীর্ষ ফলাফলের স্কুল গুলো:
ফলাফল তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যেখানে পাসের হার ৯৫.১২ শতাংশ। এছাড়া উল্লেখ যোগ্য ভালো ফলাফল করেছে:
রামুর রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (৯১.১১% পাস, ৮ জন জিপিএ-৫)
উখিয়ার আবুল কাশেম নুর জাহান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় (৯১.১৭% পাস)
চকরিয়ার কিশলয় আদর্শ শিক্ষা নিকেতন (৯১.০৫% পাস)
রামুর টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট (৭৫.৮৬% পাস, ৪ জন জিপিএ-৫)
জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে থাকা স্কুল:
জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বিচারে শীর্ষ স্থানে রয়েছে রামুর দুটি স্কুল: রামু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, যেখানে ৮ জন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। কক্সবাজার সদরের কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও ১২ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
তলানিতে থাকা স্কুল:
দুর্ভাগ্য জনক ভাবে তালিকার তলানিতে রয়েছে মহেশখালী উপজেলার মহেশখালী আইল্যান্ড উচ্চ বিদ্যালয় যেখানে পাসের হার মাত্র ২৭.৭৭ শতাংশ। এছাড়া খুবই কম পাসের হারের মধ্যে রয়েছে:
মহেশখালী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় (৫৩.০৬% পাস)
চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইসলামীয়া আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসা (৫৪.১৬% পাস)
চকরিয়ার রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় (৫৪.৯২% পাস)
চকরিয়ার ডুলাহাজারা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় (৫৯.৪৫% পাস)
ভোকেশনাল শাখায় এই ব্যাপক বৈচিত্র্য এবং কিছু স্কুলের চরম খারাপ ফলাফল, বিশেষ করে মহেশখালী ও চকরিয়ার নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের চিত্র, সাধারণ বিভাগের সামগ্রিক খারাপ ফলাফলের মতোই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাবিদেরা মনে করছেন, সাধারণ বিভাগে শিক্ষার্থীদের গণিত ও বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা এবং ভোকেশনাল শাখার জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব সামগ্রিক এই হতাশাজনক চিত্রের পেছনের প্রধান কারণ। তারা দ্রুত শ্রেণির পাঠদানে বিশেষ তদারকি এবং কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।


