জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
মাথার ওপর এক হাতে ধরা ছাতা, অন্য হাতে মাইক্রোফোন। বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা পড়ছে কাপড়ে ও মুখে, কিন্তু থামার উপায় নেই – চলছে ফুটবলের ধারাভাষ্য। আর সামান্য দূরেই গ্যালারির উঁচুতে পিচ্ছিল প্রাচীরে ক্যামেরা ও ট্রাইপড কোনো রকম প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে লাইভ সম্প্রচারের চেষ্টা করছেন সংবাদকর্মীরা।
কক্সবাজারের প্রধান ক্রীড়াঙ্গন বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামের নিত্যদিনের চিত্র এখন এটি। স্টেডিয়ামটিতে একটি নির্ধারিত কমেন্ট্রি বক্স না থাকায় এভাবেই প্রতিনিয়ত চরম ভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেলাধুলার সংবাদ সংগ্রহ ও সরাসরি সম্প্রচারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ধারাভাষ্যকার ও সাংবাদিকেরা।
সম্প্রতি স্টেডিয়ামটিতে অনুষ্ঠিত একটি ফুটবল ম্যাচের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্রীড়া প্রেমীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে গ্যালারির বিপজ্জনক ও উঁচুতে দাঁড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কয়েকজন তরুণ ধারাভাষ্যকার ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরা পারসনরা । সামান্য একটু পা পিছলে গেলে বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সংবাদকর্মী ও ক্রীড়ানুরাগী জানান, আন্তর্জাতিক পর্যটন শহর হিসেবে কক্সবাজারের ফুটবলের জনপ্রিয়তা দেশজুড়ে। এখানে প্রায়ই জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে জমজমাট ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের তো দূরের কথা, সাধারণ একটি প্রেস বা কমেন্ট্রি বক্স না থাকা টা চরম হতাশা জনক।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে দ্রুত একটি আধুনিক কমেন্ট্রি বক্স নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। এর পেছনে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কারণ ব্যাখ্যা করেছেন :-
১. কর্মীদের জীবন রক্ষা: উন্মুক্ত ও ভেজা ছাদে দাঁড়িয়ে কাজ করা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা আয়োজকদের প্রথম দায়িত্ব।
২. সম্প্রচারের মান নিশ্চিত করণ: খোলা মাঠে বৃষ্টি ও বাতাসের শব্দের কারণে ধারাবিবরণীর অডিও স্পষ্ট শোনা যায় না। সাউন্ডপ্রুফ রুম থাকলে দেশ-বিদেশের লাখো দর্শক নিরবচ্ছিন্ন সরাসরি খেলাধুলা উপভোগ করতে পারবে ও স্পষ্ট ধারাবিবরণী উপভোগ করতে পারবেন।
৩. দামী সরঞ্জামের সুরক্ষা: সরাসরি সম্প্রচারে ব্যবহৃত ক্যামেরা ও সাউন্ড ডিভাইস অত্যন্ত সংবেদনশীল। পর্যাপ্ত ছাদ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই এসব সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে লাখ টাকার ক্ষতি হতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক ধারাভাষ্যকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই ঝুঁকিটা নিই। কিন্তু একটা আধুনিক ও স্থায়ী কমেন্ট্রি বক্স থাকলে আমাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।
কক্সবাজারের ফুটবলের মান রক্ষা এবং গণমাধ্যম কর্মীদের শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া সংস্থাকে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রীড়ামোদী দর্শকেরা।


