মোঃ হযরত আলী শান্ত, সাতক্ষীরা শ্যামনগর থেকে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা জি এল এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একাধিক স্থানীয় নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। সদ্য অনুমোদিত এই অ্যাডহক কমিটিকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল অবিলম্বে বিতর্কিত এই কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের আবেদনের প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের বিদ্যালয় পরিদর্শক মুঃ এনামুল কবিরের গত ৩১ আগস্ট (২০২৬) তারিখে স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে (স্মারক নম্বর: বিঅ-৬/৪৮৪৫/৩৭.১১.৪০৪১.৫০১.০১.৬.২০.২৫.১৪৭) আগামী ৬ মাসের জন্য উক্ত অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত নতুন কমিটিতে মীর রেজাউল হোসেনকে সভাপতি এবং ইমাম হাসানকে অভিভাবক সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবগঠিত কমিটির সভাপতি মীর রেজাউল হোসেন ও তার পরিবার সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তার বড় ভাই মীর আঃ রাজ্জাক ইউনিয়ন কমিটির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। অন্যদিকে, অভিভাবক সদস্য ইমাম হাসান ইউনিয়ন কমিটির যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন।
স্থানীয় ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে প্রধান শিক্ষক ইয়াছিমুর রহমান লিংকনের যোগসাজশে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ম্যানেজিং কমিটিতে পদ দখল করেছিলেন। সেই সময়ে স্কুলে নিয়োগ বাণিজ্য ও সম্পদ আত্মসাৎসহ নানান আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির ঘটনা ঘটে, যা বিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্য ও সুনাম চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে।
আরও তথ্যমতে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াছিমুর রহমান গাবুরা ইউনিয়নের সাবেক বিতর্কিত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা লেলিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। এছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষক মামুনুল হাসান শামীম গাবুরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
অভিভাবকরা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরও স্বৈরাচারের দোসরদের পুনরায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর পেছনে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মামুনুল হাসান শামীমের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভূমিকা রয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, “বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের লোকজন কমিটিতে থেকে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আবার কীভাবে সেই একই বলয়ের বিতর্কিত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ পদ পায়? আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং দ্রুত এই বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্তির দাবি করছি।”
অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অতীতের অনিয়ম আড়াল করতে এবং ব্যক্তিগত সুবিধা হাসিলে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মিলেই এসব বিতর্কিত ব্যক্তিদের নামের তালিকা বোর্ডে পাঠিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের সুনাম ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এই অ্যাডহক কমিটি অবিলম্বে বাতিল করে নিরপেক্ষ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকবৃন্দ।


