জহিরুল ইসলাম সুমন চৌদ্দগ্রাম (প্রতিনিধি
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি রাশেদা আক্তার হীরা বলেছেন, জনগণের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা বিএনপি সরকারের এক নম্বর অঙ্গীকার। দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছেন, বিশেষ করে বিএনপির নেতাকর্মীরা মা বোনের কানের দুল নাকফুল বিক্রি করে মামলা চালাতে হয়েছে, জেলে থাকতে হয়েছে। তারা কষ্ট দিতে দিতে এতো পাহাড়সম কষ্ট দিয়েছে যে আল্লাহ হুকুমে এদেশর মানুষ অভূতপূর্বভাবে এদেরকে এদেশ থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করেছে। এখনো ষড়যন্ত্র থেমে নেই, সে ভারতে বসে বসে এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র করে। ১৭ বছরের ষড়যন্ত্রে আমাদের বিদ্যুতের চাবিকাঠি যেভাবে তাদের নাগালে নিয়ে গিয়েছিল। আজকে সেই ঝাড়খন্ডে বসে এদেশের বিদ্যুতের সুইচ টিপে দেয়, অন্ধকার করে দেয়। তারা আমাদের কাছ থেকে ক্যাপাসিটি চার্জ নিয়ে আমাদের দেউলিয়া করে দেয়। সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল স্বৈরাচারী হাসিনা। আদানি আমাদের কয়লা ব্যবহার না করে তার ইচ্ছামত অষ্ট্রেলিয়া থেকে ইচ্ছামত দামে কয়লা কিনবে। তার ইচ্ছামত তার পরিবহন ব্যবহার করবে। যদি বিদ্যুৎ না কিনি তাহলে ক্যাপাসিটি চার্জ নিবে। এভাবে বিরাট ঋণের বোঝা আমাদের উপর চাপিয়েছিল সেই স্বৈরাচারী সরকার।
তিনি আরো বলেন, আপনারা স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব পছন্দ করেন বলেই বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন, সরকারে এনেছেন। আমাদের অঙ্গীকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের অঙ্গীকার, এক নাম্বার অঙ্গীকার আপনাদের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। আমাদের সরকার দেশের মানুষের কষ্ট লাগব করবে। আমাদের সরকার বলেনা আমরা দেশকে সিঙ্গাপুর বানিয়ে দিব, বিরাট কিছু করে দিব। আমাদের সরকার বলে, আমাদের সকল সন্তান যেন স্কুলে যায়, ঠিকমতো চিকিৎসা পায়, কর্মসংস্থান হয়। তারা যেন উপার্জন করে খেতে পারে, তাদের যেন অভাব অনটন স্পর্শ না করে।
তিনি মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন।
সমাবেশে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ কামরুল হুদা বলেন, নির্বাচনের সময় যারা ফ্যাসিবাদে ছিলেন, যাদেরকে বিদায় করা হয়েছে আন্দোলন করে তাদেরকেও বলা হয়েছে উনি মুরুব্বী, বৃদ্ধ মানুষ: উনাকে সম্মানিত করিয়েন। এই কথা বলে প্রলুব্ধ করেছে না? কারা করেছে? তার মানে ফ্যাসিবাদের দোসর যারা, কর্মি যারা তাদের সাথে এদের আঁতাত আছে, সংযোগ যোগাযোগ আছে। আগামী ৫ তারিখে যে পোগ্রাম, আমরা আশা করবো তারা যে রোড মার্চ করবে তাদের এখানে যেন কোনো ফ্যাসিবাদী লোক না থাকে, ফ্যাসিবাদের দোসররা না থাকে। আর যদি থাকে আমরা যদি দেখি ইনশাআল্লাহ এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে চাই আপনাদেরকে বিতাড়িত করার জন্য এই চৌদ্দগ্রাম থেকে আন্দোলন শুরু হবে ইনশাআল্লাহ।
চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা বিএনপির সভাপতি জিএম তাহের পলাশীর সভাপতিত্বে ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন এর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হারুন-অর রশিদ মজুমদার, উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি ইঞ্জিঃ শাহ আলম রাজু, পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী রাকিবুল আহসান মহব্বত, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুন্নবী পাটোয়ারী নুরু সহ পৌর ও উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে বিশাল বর্ণাঢ্য র্যালি চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকা পদক্ষীণ করে।


