রতন রায়, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের জগমনের চর এলাকার মানুষের প্রতিদিন কাটছে অনিশ্চয়তায়। বসতভিটা ও ফসলি জমি হারানোর পর এবার তাদের চোখের সামনে হুমকিতে পড়েছে বিদ্যালয়, মাদরাসা, মসজিদ ও কবরস্থান। ধরলার ভাঙন থেকে এসব প্রতিষ্ঠান রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে জগমনের চরে আয়োজিত মানববন্ধনে চার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাসিন্দা কোবাদ আলী ও কাশেম আলী। তাঁরা ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, কয়েক বছর ধরে ধরলা নদীর ভাঙনে জগমনের চর এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এরই মধ্যে প্রায় ৪০-৫০টি বসতবাড়ি নদীর করালগ্রাসে হারিয়ে গেছে। একসময় যেখানে ছিল মানুষের ঘর, উঠান ও ফসলের মাঠ, সেখানে এখন শুধু নদীর স্রোত।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এবার হারিয়ে যেতে পারে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও। নদীর খুব কাছেই রয়েছে বিদ্যালয়, মাদরাসা, মসজিদ ও কবরস্থান। এসব প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে চলে গেলে শুধু স্থাপনা হারাবে না, বিপর্যস্ত হবে পুরো চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা। বন্ধ হয়ে যেতে পারে শত শত শিশুর লেখাপড়া।
স্থানীয় বাসিন্দা কোবাদ আলী বলেন, “প্রতিবছরই নদী আমাদের ঘরবাড়ি আর জমি কেড়ে নিচ্ছে। কতবার যে ঘর সরিয়েছি, তার হিসাব নেই। স্থায়ী বাঁধ ছাড়া এই ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়ার আর কোনো পথ নেই।”
আরেক বাসিন্দা কাশেম আলী বলেন, “আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি। বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে গেলে চরাঞ্চলের শত শত শিশুর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা চাই।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চোখেমুখেও ছিল অনিশ্চয়তার ছাপ। স্থানীয়রা বলেন, আজ যে বাড়িটি আছে, আগামী বর্ষায় সেটি থাকবে কি না এমন শঙ্কা নিয়েই দিন কাটছে অনেক পরিবারের।
মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগীরা ধরলা নদীর তীর সংরক্ষণে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙনকবলিত এলাকাকে টেকসইভাবে রক্ষার জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তাঁদের দাবি, আর কোনো পরিবার যেন বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব না হয়, আর কোনো শিশুর বিদ্যালয় যেন নদীর পানিতে হারিয়ে না যায়। এ জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।


