জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার:
কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্তবর্তী দুর্গম অঞ্চল গুলোকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত দেশে প্রবেশ করছে মিয়ানমারের মাদকের বিশাল চালান। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশিতে উদ্ধার হচ্ছে লাখ লাখ পিস ইয়াবা, তবে চোরাচালানের মূল হোতা ও পাচারকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সর্বশেষ শনিবার ভোররাতে রামু উপজেলার গর্জনিয়া সীমান্তে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন ১১ বিজিবি এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ১ শত পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। তবে প্রতিবারের মতো এবারও বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মালামাল ফেলে গহীন জঙ্গলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় পাচারকারীরা।
বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ বিজিবির একটি বিশেষ টহলদল সীমান্ত পিলার ৪৮/৪ এস এলাকা দিয়ে অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তোন্দুলের মুখ এলাকায় চোরাকারবারীদের গতিবিধি লক্ষ্য করে বিজিবি। এ সময় পাচারকারীদের থামার নির্দেশ দিলে তারা সাথে থাকা বস্তা ফেলে দ্রুত গহীন পাহাড়ি জঙ্গলে আত্মগোপন করে। পরে পরিত্যাক্ত বস্তাটি তল্লাশি করে ২০ কাটে সাজানো মোট ২ লাখ ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে বিজিবি। যেকোনো মূল্যে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান বন্ধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
মাদক উদ্ধার হলেও অধরা পাচারকারীরা:- উদ্বেগে স্থানীয়রা
কক্সবাজারের সচেতন মহলের মতে, সীমান্ত জুড়ে প্রায়ই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের খবর মিললেও সে তুলনায় পাচারকারী বা গডফাদার গ্রেপ্তারের হার বেশ কম। পরিত্যক্ত অবস্থায় মাদক উদ্ধারের ফলে মূল অপরাধীরা অধরাই থেকে যাচ্ছে এবং পুনরায় নতুন চালান নিয়ে আসার সুযোগ পাচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও বাড়িয়ে ইয়াবার চালান জব্দের পাশাপাশি মূল সিন্ডিকেট সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


