মোঃতানজিলুল ইসলাম লাইক রাজশাহী,
রাজশাহী, ২৬ আগস্ট ২০২৬
খাতার পাতা উল্টে যে আঙুলে ভেসে ওঠার কথা ছিল ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন, যে বয়সে কচি হাত দুটোতে মানায় হালকা পাঠ্যবই—সেই হাতেই আজ আঁকড়ে ধরা অধিকারের নিঃশব্দ ব্যানার। বাবার কাঁধের অমানুষিক লড়াইয়ের ভার সইতে না পেরে, অবশেষে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে কোমলমতি সন্তানরা।
গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ৫% প্রফিট শেয়ারের দীর্ঘ ১৬ বছরের আইনি ও বকেয়া পাওনা আদায়ের দাবিতে আজ এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী হলো রাজশাহী। দীর্ঘ ১৯ মাসের ধারাবাহিক আন্দোলনের পর, কাদিরগঞ্জ নাজমুল হক স্কুলের সামনে অভিভাবক ছাড়া কেবল সন্তানরাই বুক চিতিয়ে দাঁড়ায় নিজেদের পরিবারের অধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে।
অশ্রুসিক্ত চোখে ও দৃঢ় কণ্ঠে শিশুরা কেবল একটি প্রশ্নই ছুঁড়ে দিয়েছে সমাজের কাছে—“আমাদের বাবারা নিজেদের ঘাম ঝরানো ন্যায্য পাওনা থেকে কেন এতদিন বঞ্চিত? আমরা আমাদের পরিবারের স্বপ্নগুলো কবে ফেরত পাব?”
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আইনি জটিলতা, বঞ্চনা ও প্রশাসনিক হয়রানির চাকা পিষে ফেলছে বহু পরিবারকে। বাবারা যখন গভীর রাতে মিথ্যে মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয়ে শঙ্কিত, তখন তাদের সন্তানরা রাজপথে দাঁড়িয়ে জানান দিল—এই যুদ্ধ আর শুধু তাদের বাবাদের নয়, এটি এখন পুরো পরিবারের বেঁচে থাকার লড়াই।
বঞ্চনার এই দীর্ঘ পথচলায় সন্তানদের আকুল আবেদন, রাষ্ট্র ও দেশের অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন তাদের এই নিঃশব্দ কান্না শোনেন। কারণ ন্যায্য পাওনা কোনো করুণা বা দান নয়—এটি শ্রমিকের রক্ত-ঘামে অর্জিত অধিকার। শিশুদের এই রাজপথের প্রতিবাদ আজ দেশের প্রতিটি মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে।
সন্তানদের মাধ্যমে উপস্থাপিত প্রধান ৩টি দাবি:
১৬ বছরের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া: শ্রম আইন অনুযায়ী সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া ৫% প্রফিট শেয়ার অবিলম্বে পরিশোধ করা।
হয়রানি বন্ধ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার: আন্দোলনের মুখে কর্মীদের ওপর চাপানো সকল প্রশাসনিক বাধা ও ভুয়া মামলা বাতিল করা।
প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ: শ্রমিকদের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং আইনি জটিলতার স্থায়ী নিরসনে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ।


