যশোর প্রতিনিধি
যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ১৬১ নং রহমতপুর সরোজিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে অনিয়ম ও দুর্নীতি, আর এই দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছে সহকারী শিক্ষক রকিব, দাতার সম্পত্তির লিজের টাকা চলে যাচ্ছে প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী শিক্ষকের নিজেদের পকেটে, এই অনিয়ম ও দুর্নীতি দেখার কেউ নেই।
সরকারি রেজিস্ট্রার খাতায় হিসাব না রেখে সহকারী শিক্ষা অফিসার মাহিদুল ইসলামের নির্দেশে টাকার হিসাব রাখছেন বেসরকারি খাতায়, এই টাকা ব্যাংক একাউন্টে জমা রাখার নির্দেশ থাকলেও টাকা থাকছে প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী শিক্ষক রকিবের পকেটে।
প্রধান শিক্ষিকা ট্রেনিংয়ে আসার সময় স্কুলে টাকা না দেখে নিজের কাছে রেখে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রধান শিক্ষিকা ও মানছেন সরকারি নিয়ম বর্তমান তার নিজের নিয়ম মাফিক চালাচ্ছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর এর সহযোগিতায় রয়েছে সহকারী শিক্ষক রকিব।
১৯৬৮ সালে স্থানীয় দানশীল নারী শ্রীমতি সরোজিনী বালা দাশ্য নিজের তিলে তিলে গড়ে তোলা ৫ বিঘা জমি দান করেছিলেন বিদ্যালয়টিয়ে।
১৯৮৭ সালে এই নিঃসন্তান নারী পরলোক গমন করেন। স্কুলের দেয়ালে তাঁর ছবি টাঙ্গানো থাকলেও আজ তিনি স্মৃতির পাতায়। তবে তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে অর্জিত বাৎসরিক আয় ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বর্তমানে চরম আলোচনা-সমালোচনা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
স্থানীয় ও অভিভাবকদের অভিযোগ, দাতা সদস্য শুন্য রেখে পকেট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বাদ দিয়ে দূরের লোকজনকে এনে ১১ সদস্যের পরিচালনা কমিটি গঠন করে উপজেলা শিক্ষা অফিসে তালিকা পাঠানো হয়েছে।
এমনকি জসিম নামের ব্যক্তি, যার সন্তান আগে পড়ত মাদ্রাসায় তাকে হঠাৎ করে সরোজনী স্কুলে ভর্তি করিয়ে সভাপতির পদে বসানোর পাঁয়তারা চলছে। এনিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের নামে থাকা জমি লিজ দিয়ে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার টাকা বাৎসরিক আয় হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এ টাকা ব্যাংকে জমা হওয়ার কথা থাকলেও তা জমার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব নেই। সহকারী শিক্ষক রকিব হোসেনের ভাষ্যমতে, জমি লিজের এই টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হয় না; বরং প্রধান শিক্ষিকার কাছেই রক্ষিত থাকে এবং তিনি যখন যেভাবে প্রয়োজন হয় তখন খরচ করেন।
এ আর্থিক বিষয় সর্ম্পূন সহকারী শিক্ষা অফিসার মাহিদুল ইসলাম জেনেও এক অদৃশ্য কারণে বিষয় টি এরিয়ে যায়।তিনি নিয়মের তোয়াক্কা করেন না। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই লেনদেনের হিসাব কোনো সরকারি রেজিস্টারে নয়, বরং ‘বেসরকারি খাতায়’ লিপিবদ্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন সহকারী শিক্ষা অফিসার মাহিদুল ইসলাম।
জমি লিজের টাকার একটি অংশ প্রতিষ্ঠাতার স্মৃতিবিজড়িত মন্দিরে ও পূজার কাজে দেওয়ার কথা থাকলেও তা নিয়ে মেলেনি কোনো স্বচ্ছ হিসাব। সহকারী শিক্ষক রকিবের দাবি, লিজের ৩৫% টাকা স্কুল নেয় এবং ৬৫% মন্দিরে দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের মতে, গত ২-৩ বছর ধরে মন্দিরে কোনো পূজা-অর্চনা পর্যন্ত হয় না।
অন্যদিকে, মন্দির প্রতিনিধি নিত্য মাস্টার জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ ৬০% টাকা আমাদের দেন যা ব্যাংক হিসেবে জমা হয়। এবং ৪০% রাখে স্কুল কতৃর্পক্ষ। এমনকি ২০২৫ সালের প্রাপ্য টাকাই এখনো তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি—কমিটি গঠনের পর টাকা দেওয়া হবে বলে তাদের ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
এছাড়া, প্রতিষ্ঠাতা সরোজিনী বালা দাশ্যের মৃত্যুবার্ষিকীতে মাত্র ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকার জিলাপি কিনে তাঁর জন্মদিন পালন করার মতো অদ্ভুত আনুষ্ঠানিকতা সারা হয়। তবে লিজের অবশিষ্ট টাকার সঠিক ব্যবহার কোথায় হচ্ছে, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
সরোজিনী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসিমা সুলতানা দাতা সদস্যের পদ খালি থাকা প্রসঙ্গে বলেন, “কমিটির ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।” জমি লিজের টাকার বিষয়ে তিনি স্বীকার করেন, “গত বছর আমাকে ৩৮ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল।
স্কুলের বিভিন্ন উন্নয়নে খরচের পর আমার কাছে ১২ হাজার টাকা রয়েছে আমি ট্রেনিং থেকে এসে টাকা জমা দিয়ে দিব।
স্কুল কমিটির সভাপতি প্রার্থী জসিম উদ্দিন কে কমিটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন যা শুনেছেন সব মিথ্যা ও বানোয়াট আমার ছেলে তৃতীয় শ্রেনিতে পড়ে,এবং কমিটির বিষয় সহকারী শিক্ষক রকিব সব জানে তাকে সব কিছুর নাকি ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
বিভিন্ন অভিযোগের তির বর্তমান যার দিকে, সেই সহকারী শিক্ষা অফিসার মাহিদুল ইসলামকে কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জমি লিজের টাকার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য—টাকা যেহেতু রেজিস্টারভুক্ত আছে, তদন্ত করে সঠিকভাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এক শিক্ষানুরাগী নারীর স্মৃতি ও দানকৃত সম্পত্তি রক্ষায় স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই বিতর্কিত কমিটি বাতিল, দাতা সদস্য পদে প্রকৃত ওয়ারিশ অন্তর্ভুক্তকরণ এবং জমি লিজের সমুদয় আয়ের স্বচ্ছ সরকারি হিসাব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


