নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সদর উপজেলার বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তাপসী দাসসহ দুই সহকারী শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে সরকারি নিয়ম অমান্য করে ৯,২০ থেকে ৯,৩০ মিনিটের দিকে স্কুলে আসার অভিযোগ উঠেছে।
বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে কোমলমতি শিশুদের কাছ থেকে প্রতি বছর পুরাতন বই ফেরত নেওয়া হয়, পাশাপাশি প্রতি মাসে শিশুদের কাছ থেকে ১০/ টাকা করে জমা নিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে এবং ৪টার মধ্যে ছুটি দিয়ে সকল শিক্ষক ও শিক্ষিকারা ১৫ মিনিট আগে স্কুল বন্ধ করে চলে যাওয়ার ও অভিযোগ রয়েছে।
বলরামপুর স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে পুরাতন বই ফেরত নেওয়া হয়,এই বই গুলো কি কারণে জমা নেওয়া হয়, শিশুরা এই বিষয়ে কিছু বলতে পারেন না।
সরাসরি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষিকারা দুইজন ব্যথিত অন্য তিন জন প্রতিদিন দেরি করে স্কুল আসার ও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৭,৪৫ মিনিটের দিকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন রয়েছেন,এই বিষয়ে পাশপাশে কথা বলে জানা যায়,তারা বলেন পতাকা কখন টানিয়ে রেখেছে তা বলতে পারছি না, তবে প্রতিদিন সকালে পতাকা টাঙ্গানো দেখা যায়।
স্কুলের নিরাপত্তার স্বার্থে বাহিরে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে রাখা ছিল তবে ক্যামেরা লাগানো পাওয়া যায়নি।
বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তাপসী দাসের সাথে ফোনে কথা বলা হয়, তিনি বলেন শিশুদের কাছ থেকে সব বই ফেরত নেওয়া হয় না, কিছু ভালো বই ফেরত নেওয়া হয়, সেগুলো পরবর্তীতে যদি কারো বই ছিরে যায়, অথবা নষ্ট হয়ে যায় সেই ক্ষেত্রে তাদেরকে দেওয়া হয়ে থাকে।
তিনি আরো বলেন অনেক আগে রেজুলেশন করা ছিল সেই হিসেবে শিশুদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১০/ টাকা জমা নিয়ে আয়াকে বেতন দেওয়া হয়।
তিনি বলেন এই আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানেন। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন আমাদের যদি লেট হয় তাহলে হাজিরা খাতায় সময় উল্লেখ করে ছবি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আমাদের অফিসে আসা উচিত তবে দুই একদিন একটু লেট হয়। প্রধান শিক্ষিকা তাপসী দাস, পতাকার বিষয়ে বলেন স্কুলের চাবি সহকারী শিক্ষকের কাছে থাকে পতাকা এতো সকালে কি ভাবে টানানো হয়েছে এই বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি আমি জানি না।
বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তাপসী দাস বলেন আমরা ৩ জন দূর থেকে আসি সেই কারণে আমাদের একটু দেরি হয়ে যায়।
তিনি বলেন অনলাইনে হাজিরা খাতায় সময় লিখে দেওয়া হয়।
সরাসরি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টার মধ্যে স্কুলে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে হয়, অথচ তিন শিক্ষিকা আসছেন ২০ থেকে ৩০ মিনিট লেট করে প্রধান শিক্ষিকা বলছেন আমাদের ৫-১০ মিনিট লেট হয়, আমরা হাজিরা খাতায় সময় লিখে দিয়ে অফিসে পাঠিয়ে দেয়। তিনি বলেন লেটের বিষয়ে এটিও স্যার আমাদের কিছু বলেন না, তাহলে আপনারা যেনে কি করবেন আমাদের লেটের বিষয়ে এটিও স্যার জানেন।
সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ শামীম হোসাইনকে ফোন দিয়ে বিষয় জানানো হয়, তিনি বলেন ক্যামেরার বিষয়ে আমি জানি না, এবং প্রধান শিক্ষিকা তাপসী দাস এই বিষয়ে আমাকে কিছু বলেন নাই। তিনি বলেন স্কুলে সকাল ৯টার মধ্যে আসতে হবে লেট করার কোনো সুযোগ নেই, সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করে বলেন প্রধান শিক্ষিকা নিজে শিকার করে বলেন আমাদের লেট হয়, তাহলে আপনি কি ভাবে বলছেন যে কোন ভাবেই লেট করার সুযোগ নেই তাহলে লেট করার পরেও হাজিরা খাতায় ঠিক সময় উল্লেখ্য করা হচ্ছে কি ভাবে। আর আপনি এই বিষয়টি কি ভাবে দেখছেন তিনি সাংবাদিকদের বলেন আপনাদের কাছ থেকে আমি জানতে পারলাম এই বিষয়ে সবার সাথে কথা বলে জানা হবে।
সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ হাবিবুর রহমানকে ফোন দেওয়া হয় তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


