ঢাকাMonday , 21 September 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • যশোর সদর উপজেলার ৩ ইউনিয়নে ৩টি উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবকাঠামো আছে চিকিৎসা সঠিক ভাবে হয় না:নিজেই ‘অসুস্থ

    admin
    September 21, 2026 5:22 pm
    Link Copied!

    নিজস্ব প্রতিবেদক

    ​যশোর সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বিশাল জনবহুল এলাকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্থাপন করা হয়েছিল তিনটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র— বসুন্দিয়ার জঙ্গলবান্দাল উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শাঁখারীগাতি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং লেবুতলা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র। প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার লক্ষ্যে সরকারের এই মহতী উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে তা ভেস্তে যেতে বসেছে।

    অবকাঠামো থাকলেও তীব্র লোকবল সংকট, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে নিজেই যেন এখন ‘অসুস্থ’ এ অঞ্চলের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা খাত।

    ​সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (SACMO), একজন ফার্মাসিস্ট, একজন মিডওয়াইফ (বা নার্স), একজন টেকনোলজিস্ট, একজন অফিস সহকারী ও একজন এমএলএসএস (ওয়ার্ড বয়)—এই ৭ জন স্টাফ থাকার কথা।

    অথচ প্রতিটি কেন্দ্রেই ৭ জনের বিপরীতে দায়সারাভাবে কাজ করছেন মাত্র ১ থেকে ২ জন।
    ​নিয়মানুযায়ী কেন্দ্রগুলোতে একজন করে এমবিবিএস মেডিকেল অফিসার সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে চিকিৎসাসেবা চালাচ্ছেন উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ও ফার্মাসিস্টরা।

    চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে সাধারণ রোগীরা জটিল কোনো পরামর্শ পাচ্ছেন না। ফলে সামান্য শারীরিক সমস্যাতেও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে যেতে হচ্ছে শহরে।

    ​জঙ্গলবান্দাল উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রাহুল দেব নামে একজন মেডিকেল অফিসার পদায়ন পেলেও অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রাক্কলনে (ডেপুটেশন) যশোর সদর হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন।

    ​উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর বেহাল দশা তুলে ধরে শাঁখারীগাতি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দীপংকর কুমার বলেন, “আমার এখানে মেডিকেল অফিসারসহ সাতজন জনবল থাকার কথা, অথচ একা আমাকেই পুরো অফিস সামলাতে হচ্ছে।

    বাধ্য হয়ে শুধু প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছি এবং জটিল রোগীদের সদর হাসপাতালে রেফার করছি। এছাড়া পর্যাপ্ত ওষুধেরও তীব্র সংকট রয়েছে।

    ​একই ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে জঙ্গলবান্দাল উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মনিরা খাতুন, তিনি বলেন আমাদের সেবা দেওয়ার মতো ন্যূনতম পরিবেশ নেই।

    স্যানিটেশন ব্যবস্থা খুবই করুণ। পর্যাপ্ত ওষুধ ও লোকবলের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।”
    ​জরুরি সেবার বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে গর্ভবতী মায়েদের প্রসবকালীন চিকিৎসায়।

    কোনো মিডওয়াইফ বা নার্স না থাকায় চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছেন প্রসূতি নারীরা। পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী ওষুধের জোগান না থাকায় বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দরিদ্র রোগীরা।

    সীমিত লোকবল নিয়ে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সেখানে কর্মরত স্বল্পসংখ্যক কর্মীও।
    ​ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে স্থায়ী মেডিকেল অফিসার ও পর্যাপ্ত ওষুধ থাকলে তাদের জমানো টাকা বা ভিটেমাটি বিক্রি করে চিকিৎসা নিতে শহরে ছুটতে হতো না।

    ​এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ আলী বলেন, “আমাদের জনবল কম থাকায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।” ডাক্তার রাহুল দেবের ডেপুটেশনের বিষয়ে তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যোগদান করে ডেপুটেশনে সদর হাসপাতালে কাজ করার বিষয়টি নিয়মমাফিকই হচ্ছে।

    ​প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে দ্রুত পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, ওষুধের সঠিক জোগান নিশ্চিত করা এবং জরাজীর্ণ ভবন ও পরিবেশের সংস্কার সাধনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST