বি.এম. সাদ্দাম হোসেন ; স্টাফ রিপোর্টারঃ
মাগুরার শালিখা উপজেলার মুন্সী শহিদুর রহমান বিএম কলেজকে ঘিরে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ জনমনে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত নয়, এর স্বীকৃতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে এবং শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তবতা সম্পর্কেও ভিন্নমত রয়েছে। এর মধ্যেই ভবন নির্মাণের জন্য প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে প্রায় দেড় কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ অনুমোদনের খবর প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। একদিকে কেউ দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী রয়েছে এবং শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফলে বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে কোন তথ্য, নথি ও মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়েছে—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল ও সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
এ পর্যন্ত শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের পূর্ণাঙ্গ সরকারি আদেশ (জিও) জনসাধারণের জন্য উন্মুক্তভাবে প্রকাশিত হয়নি বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
সচেতন মহলের মতে, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে—
– বরাদ্দের সরকারি নথি (জিও) জনসম্মুখে প্রকাশ করা।
– প্রতিষ্ঠানটির আইনগত অবস্থান, স্বীকৃতি ও শিক্ষা কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা।
– তদন্তে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
– আর যদি সব নিয়ম মেনেই বরাদ্দ প্রদান করা হয়ে থাকে, তবে সেই প্রক্রিয়া ও তথ্য জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বচ্ছতা থাকলে জনমনের প্রশ্নের অবসান হবে, আর অনিয়ম থাকলে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। জনগণের অর্থের সঠিক ও ন্যায্য ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও স্পষ্ট অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সচেতন নাগরিকরা।

