এস.এম. রিয়াদুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ায় চুরি ও মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা এক নারীকে দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমীর হামজার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করানোর অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির বিরুদ্ধে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে কুষ্টিয়া শহরের বটতৈল ক্যানাল পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মাদক ও অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যবহার করে তথাকথিত জুলাই আন্দোলনের আদর্শ ও উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—একটি রাজনৈতিক দল কতটা নৈতিক সংকটে পড়লে এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে।
বটতৈল ক্যানাল পাড়ার বাসিন্দা জামেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের ৩০০ টাকা দেওয়ার কথা বলে মিছিলে নেওয়া হয়েছিল। কী কারণে মিছিল, তা আমাদের জানানো হয়নি। আমরা কয়েকজন নারী গিয়েছিলাম, সবাইকে ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, বটতৈল ক্যানাল পাড়ার বাসিন্দা লাইলা বেগম (পিতা: গোলাপ হোসেন) দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও চুরির মামলা রয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে মাদকসহ পুলিশের হাতে আটক হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও এবং বর্তমান সময়েও রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে তার অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় এক মুদি দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সন্ধ্যার পর লাইলার বাড়িতে প্রকাশ্যেই মাদক কেনাবেচা চলে এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সেখানে মাদক কিনতে আসে। ৫ আগস্টের পর প্রশাসনের নজরদারি শিথিল থাকায় সে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়রা অবিলম্বে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অপরাধী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



