জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করার কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। বিশ্বমানের আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার সুবিধার্থে ও নাগরিক সেবার পরিধি বাড়াতে নতুন এই সিটি কর্পোরেশন গঠনের লক্ষ্যে সীমানা প্রস্তাব করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান স্বাক্ষরিত এই গণবিজ্ঞপ্তিটি স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনার আলোকে জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) প্রতিষ্ঠা বিধিমালা, ২০১০’-এর বিধি-৩-এর উপ-বিধি (২) অনুসারে প্রস্তাবিত কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত এলাকা, সংশ্লিষ্ট মৌজা এবং বিএস (BS) দাগ নম্বরসমূহ বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
‘স্মার্ট ও আধুনিক পর্যটন নগরী গঠনে এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক’ বলে উল্লেখ করেন – স্থানীয় সংসদ সদস্যরা । যেসব এলাকা যুক্ত হচ্ছে প্রস্তাবিত সিটি কর্পোরেশনে, বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, বিদ্যমান কক্সবাজার পৌরসভার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলার মোট ৫টি ইউনিয়নের বেশ কিছু মৌজাকে প্রস্তাবিত সিটি কর্পোরেশনের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে:- কক্সবাজার সদর উপজেলার কক্সবাজার পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত কক্সবাজার মৌজা জেএল নং ১৬, পারাবত চর জেএল নং ২০ এবং ঝিলংজা মৌজার জেএল নং ১৭ চিহ্নিত অংশ। খুরুশকুল ইউনিয়ন এর খুরুশকুল জেএল নং ১৫ ও তেতৈয়া জেএল নং ১৩ মৌজা পিএমখালী ইউনিয়ন এর পিএমখালী জেএল নং ১৮ ও তোতকখালী জেএল নং ১৪ মৌজা। ঝিলংজা ইউনিয়ন এর খরুলিয়া জেএল নং ১৯ মৌজা এবং রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের ডুমখালী জেএল নং ২৬, দক্ষিণ মিঠাছড়ি জেএল নং ২৭ ও চাইল্যাতলী/চেইন্দ্যা জেএল নং ২৮ মৌজা, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন এর জঙ্গল খুনিয়াপালং জেএল নং ৩০ মৌজা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের বক্তব্য হচ্ছে, কক্সবাজারকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার এই প্রক্রিয়াকে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল।
সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, “কক্সবাজার কেবল জেলা সদর নয়, এটি বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র। দিন দিন এই শহরের পরিধি ও জনসংখ্যা বাড়ছে। একটি পরিকল্পিত, গ্রিন ও স্মার্ট আন্তর্জাতিক নগরী হিসেবে কক্সবাজারকে গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশন গঠনের কোনো বিকল্প ছিল না। জেলা প্রশাসনের এই গণবিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে আমাদের স্বপ্নের আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী বাস্তবায়নের পথ আরও সুগম হলো।”
তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “কক্সবাজারবাসীদের জন্য এটি অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের মুহূর্ত। পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং এখানকার সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত সিটি কর্পোরেশনের দাবি আজ বাস্তবায়নের পথে। সিটি কর্পোরেশন হলে বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত নারী উন্নয়ন, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সর্বস্তরের নাগরিকে সেবার মান বৃদ্ধি পাবে। সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
সরকারি বিধিমালা অনুসরণে জেলা প্রশাসনের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ নাগরিক ও সংশ্লিষ্টদের মতামত বা আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত এলাকা ও ভৌগোলিক সীমানার বিষয়ে কারও কোনো মতামত বা যৌক্তিক আপত্তি থাকলে তা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত ভাবে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর প্রাপ্ত কোনো দাবি বা আপত্তি বিবেচনা করা হবে না।
জেলা প্রশাসনের এই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। শীঘ্রই সকল আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাঙ্ক্ষিত ‘কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশন’ দৃশ্যমান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন কক্সবাজারের জনগণ।


