এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার//
কক্সবাজার জেলা শহরের বাসিন্দা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কক্সবাজার শহর শাখার আহবায়ক যুবনেতা আজিজুল হক সোহেল এর ষ্ট্যাটাস টা হুবহু পাঠকের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হল ।
আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। কাগজে-কলমে কক্সবাজারকে বলা হয় “বাংলাদেশের পর্যটনের রাজধানী”। কিন্তু বাস্তবে কি কক্সবাজার সেই মর্যাদা পেয়েছে? দুঃখজনক হলেও সত্য—এটা যেন নামকাওয়াস্তে দিবস পালন ছাড়া আর কিছু নয়।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে কক্সবাজারে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এখনকার চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। কক্সবাজারের সৌন্দর্য যেন একই জায়গায় স্থির হয়ে গেছে—সুগন্ধার দখল বেদখল, অব্যবস্থাপনা, যানজট আর অপরিকল্পিত স্থাপনা। নেই শিশুদের জন্য বিনোদন পার্ক, নেই পর্যটকদের জন্য আধুনিক পরিকল্পিত অবকাঠামো।
হিমছড়ির ঝর্ণা মান্ধাতা আমলের মতো পড়ে আছে, ইনানির পাথুরে বিচ আজও অবহেলিত। মেরিন ড্রাইভ হয়ে টেকনাফ, সাবরাং—সবখানেই ভূমিদস্যুদের রামরাজত্ব। সেন্টমার্টিন দ্বীপ প্রতিনিয়ত পরিবেশগত ধ্বংস আর দখলদারদের আগ্রাসনের শিকার। মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রায় মৃতপ্রায়, সোনাদিয়া অবহেলিত। রামুর রাবার বাগান ও বৌদ্ধ মন্দির ধ্বংসের পথে, ঈদগড় ডাকাতদের অভয়ারণ্য, চরকরিয়ার অপার সম্ভাবনা অদেখা পড়ে আছে।
সবচেয়ে দুঃখজনক হলো—কক্সবাজারের শত শত একর জমি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা নিজেদের দখলে নিয়েছে। পর্যটনের জন্য নির্মিত সুন্দর কটেজগুলোও চলে গেছে এনজিওর দখলে, যেখানে গড়ে উঠেছে অফিস,কোয়ার্টার,গোডাউন। অথচ পর্যটকদের জন্য নেই আধুনিক বিনোদন, নেই আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পিত অবকাঠামো।
কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প আজ দখল, অনিয়ম, শোষণ আর অবহেলার কবলে বন্দি। এখানে চলছে শুধু ইট-পাথরের দালান নির্মাণ আর ভূমি দখলের প্রতিযোগিতা। সরকারের আমলাদের বিভিন্ন প্রজেক্টের নামে দূর্নীতির মহোৎসব! কক্সবাজারকে খুঁড়ে খঁড়ে খাচ্ছে এক শ্রেণির আমলা! যদি সঠিক পরিকল্পনা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও আন্তরিক দৃষ্টি দেওয়া যায়—কক্সবাজার হতে পারে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র, সত্যিকারের সৌন্দর্যের প্রতীক।
এখন সময় এসেছে “পর্যটনের রাজধানী” নামের খোলস ছেড়ে বাস্তবে কক্সবাজারকে গড়ে তোলার। কারণ পর্যটন শুধু বিনোদন নয়—এটা দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি গঠনের অন্যতম হাতিয়ার।
কক্সবাজারের প্রকৃত সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হোক—তাহলেই এই শহর সত্যিকার অর্থে হবে বাংলাদেশের পর্যটনের প্রাণকেন্দ্র, সৌন্দর্যের প্রতীক।


