এম সোলায়মান হোসেন (বিশেষ প্রতিনিধি)
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রখর গরমে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনেক পরিবারকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি এবং শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টের মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় দিনে একাধিকবার এবং রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। অনেক সময় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের ভেতরে অসহনীয় গরমের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ছোট শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। রাতের বেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে অনেকেই ঘুমাতে পারছেন না। পরদিন কর্মস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যবসায়িক কাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নিয়মিত পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা, ইন্টারনেট ব্যবহার এবং কম্পিউটারে কাজ করাও অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসা, দোকানপাট, সেলুন, ফটোকপি, কম্পিউটার সার্ভিস সেন্টার ও বিভিন্ন উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানে কাজের গতি কমে গেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
গৃহিণীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকায় রান্না, পানির মোটর চালানো, খাবার সংরক্ষণ এবং অন্যান্য গৃহস্থালির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় পানির সংকটও দেখা দিচ্ছে। ফলে জনভোগান্তি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং অন্যান্য সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকলেও তা সব সময় পর্যাপ্ত নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অনেক এলাকায় ছোট ছোট চিকিৎসাকেন্দ্র এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সমস্যায় পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা শুধু জনজীবন নয়, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং উৎপাদন ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।
এদিকে ভুক্তভোগী মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য জানিয়ে সমস্যা সমাধানে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসে।
তবে এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


