রতন রায়:কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
১১-৮-২০২৬ ইং
দেশের একেবারে প্রান্তে, তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রের চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষগুলোর কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া যেন এক দুর্লভ সম্ভাবনা সেই কঠিন বাস্তবতাকে বদলে দিতে উদ্যোগী হয়েছে বেসরকারি সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ বাংলাদেশ। সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবার তথ্য পৌঁছে দেওয়া, প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, পুলিশ ও সুশাসন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং চরবাসীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন এই সভায়। ফ্রেন্ডশিপের আয়োজনে আয়োজিত এই সংলাপে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. কুদরত-ই-খোদা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদ, ফ্রেন্ডশিপের আঞ্চলিক সমন্বয়ক আব্দুস সালাম, সুশাসন বিভাগের সহকারী প্রকল্প ব্যবস্থাপক রেজওয়ানুল হক, জ্যেষ্ঠ আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক নাঈম কামরান ও নাজমুল হোসেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি ও চরাঞ্চলের নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতেই বক্তারা তুলে ধরেন, দেশের বিশাল একটি অংশ এখনো সরকারি সেবার আওতার বাইরে রয়েছেন শুধুমাত্র তথ্যের অভাবে কিংবা প্রক্রিয়াজটে। বিশেষ করে নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সেবাগুলো আরও সহজলভ্য ও জনবান্ধব করার তাগিদ দেন তারা। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কুদরত-ই-খোদা বলেন, ‘শুধু সেবা থাকলেই চলবে না, সেবা যেন প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীনভাবে পৌঁছে যায় সেটি নিশ্চিত করতেই আমাদের এই উদ্যোগ।’ সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে বলেন, ‘চরের মানুষ প্রায়ই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসতে পারেন না; তাই কমিউনিটি ক্লিনিক ও মোবাইল সেবা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।’
আলোচনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তির আওতামুক্ত মানুষের জন্য সহায়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। ফ্রেন্ডশিপের আঞ্চলিক সমন্বয়ক আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা চাই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সেবার তথ্য নিয়মিত প্রচার করা হোক, সেবাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণ করা হোক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে জনগণের সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো হোক। এতে সরকারি সেবার কার্যকারিতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।’
সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার হলে কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সহজেই সরকারি সেবা পাবেন, যা নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে শক্তিশালী করবে।
জেলা চর উন্নয়ন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু সভায় বলেন, ‘চরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে নাগরিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। দুর্গম চরবাসীও যেন শহর ও মূল ভূখণ্ডের মানুষের মতো সমান নাগরিক সুবিধা পায়, সে প্রত্যাশায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’
সভায় অংশগ্রহণকারীরা নিয়মিত কমিউনিটি সচেতনতামূলক কার্যক্রম, সরকারি দপ্তরের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের মতবিনিময় এবং সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর একমত হন। ফ্রেন্ডশিপের সহকারী প্রকল্প ব্যবস্থাপক রেজওয়ানুল হক জানান, ভবিষ্যতে আরও এমন সংলাপের আয়োজন করা হবে যাতে জনগণের কণ্ঠস্বর সরাসরি নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছায় এবং সেবার মানোন্নয়নে তা কার্যকর ভূমিকা রাখে।


