চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি ::
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিল্ডিং ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে তিন ভাতিজাকে মারধর করে স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে চাচা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।। উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী প্রবাসীর মাতা সাহেদা বেগম বাদি হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযুক্তরা হলেন; মাহবুবুল হক মেম্বার, তাঁর ছেলে সুমন, সাব্বির, আরাফাত, কাউছার ও স্ত্রী শেফালী বেগম। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার উপ-পরিদর্শক
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হাটবাইর গ্রামের মাহাবুবুল হক মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে তাঁর এতিম ভাতিজা রাসেল চৌধুরী, রোমান চৌধুরী ও রানার পরিবারের উপর নির্যাতন করে আসছে। মাহাবুবুল হক গংয়ের সাথে সাহিদা বেগমের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ হলে স্থানীয় গন্যমান্য লোকজনকে জানিয়ে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সার্ভেয়ার দ্বারা জায়গা ভাগবন্টন হয়। সেখানে সাহেদা বেগমের এতিম সন্তানরা বিল্ডিং ঘর নির্মাণ কাজ করছে। । বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটায় মাহবুবুল হক মেম্বার গং হাতে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র, চুরি চাপাতি, লোহার রড, কাঠের লাঠিসোট নিয়ে বিল্ডিং ঘর নির্মাণ শ্রমিকদেরকে গালমন্দ ও মারধর করে তাড়িয়ে দেয় এবং নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে আসা ট্রাক্টরের ড্রাইভারকে মারধর করে। ওই সময় সাহেদা বেগমের ছেলে রাসেল চৌধুরী হামলাকারীদের নিষেধ করলে তার উপর হামলা চালিয়ে জখম করে। তার চিৎকার শুনে ভাই রোমান চৌধুরী উত্তেজিত হামলাকারীদের হাত থেকে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে তাকেও জখম করে। পরবর্তীতে আওয়াজ শুনে সাহেদা বেগম ও ছেলে রানাসহ পরিবারের অপর লোকজন ঘটনাস্থলে গেলে হামলা চালিয়ে জখম করে ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে মামলা করলে প্রাণে হত্যা শেষে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় প্রবাসী রাসেল চৌধুরীকে গুরুতর জখম অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার শেষে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। ওই সময় রাসেল চৌধুরীর মোটর সাইকেল ভাংচুর করে হামলাকারীরা।
গ্রাম সদ্দার হাজী এয়াছিন বলেন , আমরা গ্রামবাসী একসাথ হয়ে দুই সাভেয়ার দিয়ে সিমানা নিধারন করছি।মাহবুল হক মেম্বার আর তার বাতিজারা এবং গ্রামবাসী সবার সম্মতি নিয়ে তারা, এধারাবাহিকতায় ঘড় নিমান করা হয়েছে। এরপর মাহবুল হক মেম্বার কেন মারামারি ঘটনা ঘটলো তাহা আমার জানা নেই। তবে ওনি এইটা করা উচিত হয়ে নাই।
অভিযোগের বিষয়ে মাহবুবুল হক মেম্বারের ছেলে কাউছার আলম বলেন।
ঘটনা শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে, আমি এবং আমার বাবা রাসেলের ভাই রোমান এবং রানার সাথে, ওদের ঘরের সানসেট আরো ছোট করে দেয়ার এই নিয়ে তার ভাই সাথে আমাদের কথা হচ্ছিল। তখন হঠাৎ করে রাসেল উপস্থিত হয়, উপস্থিত হওয়ার একপর্যায়ে আমার বাবার সাথে তর্কে জড়ায়। তারপর দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে উভয় পক্ষের লোক আহত হয়। এবং আমার ছোট ভাই সুমনও গুরুতর জখম হয়ে, তখন এই অবস্থায় তাকে আমরা দুপুর বেলায় হসপিটালে চিকিৎসার জন্য পাঠাই।
প্রতিবেশী আব্দুল কাইয়ুম বলেন মাহবুবুল হক মেম্বারের অত্যাচারে আমি ক্ষতিগ্রস্ত। গত কয়েকদিন আগে সে আমার জায়গায় থেকে জোরপূর্বক অনেক গুলো কাঠের গাছ কেটে নিয়ে গেছে। আমরা কেউ বাড়িতে থাকিনা, সে আমাদের টিনের ভেরা খুলে নিয়ে গেছ। মাহাবুবুল হক মেম্বারকে ৯৬সালে আমি জাতীয় পার্টি থেকে জামায়াতে নিয়ে আসি। অথচ আজ সে আমার ক্ষতি করছে। আামাদের চলাচলের রাস্তায় ঘড় নিমান করে দখল করছে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন ,হাটবাইর গ্রামের মারামারির ঘটনায় উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঐ গ্রামের মুরুব্বিরা সামাজিক ভাবে সমাধান করবেন বলে দুইদিনের সময় ছেয়েচে।

