মাগুরা প্রতিনিধি:
আজ শুক্রবার। জুমার নামাজের পরই বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল হাফেজ মুফতি গোঃরাব্বির। পরিবারে চলছিল বিয়ের প্রস্তুতি, স্বজনদের মাঝে ছিল আনন্দের আবহ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকে। বিয়ের বদলে আজ তাঁকে বিদায় জানানো হয়েছে জানাজার নামাজের মাধ্যমে।
মাগুরা সদর উপজেলার বেঙ্গা বেরইল গ্রামের বাসিন্দা গোঃরব্বানী বিশ্বাসের একমাত্র ছেলে এবং মাগুরা পুরাতন বাজার মদীনাতুল উলুম মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ মুফতি গোঃরাব্বি গতকাল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন।
তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য মানুষ। জানাজায় মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তাঁকে ঘিরে মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কান্নার দৃশ্য হয়ে ওঠে হৃদয়বিদারক।
মৃত্যুর পর তাঁর মুখে ফুটে থাকা প্রশান্তির ছাপও উপস্থিত মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনটি যেদিন হওয়ার কথা ছিল, সেই দিনেই হাজারো মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে তাঁকে চিরবিদায় নিতে হলো।
বলি—আলহামদুলিল্লাহ, কিন্তু কেন?
এমন মর্মান্তিক বিদায়ে চোখে পানি আসে, বুক ভার হয়ে যায়। তবুও একজন মুমিনের অন্তর থেকে উচ্চারিত হয়—আলহামদুলিল্লাহ। কারণ জীবনের শেষ বিদায়ে যদি একজন মানুষ অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও দোয়া নিয়ে পৃথিবী ছেড়ে যেতে পারেন, তবে নিঃসন্দেহে সেটিও আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বড় নিয়ামত ও সম্মানের বিষয়—এমনটাই মনে করছেন তাঁর স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
তবে তাঁর বিয়ের দিনে এমন করুণ বিদায় যেন সবাইকে মনে করিয়ে দিল—মানুষ ভবিষ্যতের জন্য কত পরিকল্পনাই না করে, অথচ জীবনের শেষ মুহূর্ত কখন এসে দাঁড়াবে, তা একমাত্র আল্লাহই জানেন।
দোয়া ও মোনাজাত:
হে আরশ ও জমিনের মালিক আল্লাহ, হাফেজ মুফতি গোঃরাব্বিকে ক্ষমা করে দিন। তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন, কবরের আজাব মাফ করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। তাঁর শোকসন্তপ্ত বাবা-মা, স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন।
আল্লাহুম্মাগফির লাহু ওয়ারহামহু।
আমিন


