রাব্বি রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারী জেলা বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের একাংশের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে আসা, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা এবং বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা এখন যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর পরিবর্তে অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে—এমন কিছু ব্যক্তিকে দলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আনার চেষ্টা চলছে।
অভিযোগকারী নেতাকর্মীরা বলেন, বিএনপির দুঃসময়ে যারা মাঠে থেকে দলকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অবদান উপেক্ষিত হলে তৃণমূলে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাদের ভাষ্য, দলের আদর্শ ও নীতির প্রতি দীর্ঘদিন অনুগত থাকা নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের পরিবর্তে নতুন বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া হলে সাংগঠনিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূলের মতামত ও সাংগঠনিক বাস্তবতা বিবেচনা না করে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে থাকা কর্মীরা নিজেদের অবমূল্যায়িত মনে করছেন এবং অনেকের মধ্যেই অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, একটি রাজনৈতিক দলের মূল শক্তি হলো তৃণমূলের কর্মীরা। তাই দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও সাংগঠনিক পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে অতীতের অবদান, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং গ্রহণযোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তারা কেন্দ্রীয় বিএনপির নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জেলা পর্যায়ের সাংগঠনিক বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে তৃণমূলের মতামতকে মূল্যায়ন করা উচিত। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়নের মাধ্যমে দলের ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি আরও সুদৃঢ় করার দাবি জানান তারা।
তবে এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।


