এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
‘শিশু শ্রম বন্ধ করি, শোভন কার্যপরিবেশ নিশ্চিত করি’ – এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পর্যটন নগরী কক্সবাজারেও পালিত হয়েছে বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবস – ২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে সুবিধা বঞ্চিত ও বিভিন্ন শ্রমে যুক্ত শিশুদের নিয়ে পর্যটন জোনে র্যালি ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পিভিএইচপি প্রকল্প, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কক্সবাজার এবং স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কক্সবাজার নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা এর যৌথ উদ্যোগে হোটেল-মোটেল ও কটেজ জোনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
২৯ জুন সোমবার সকাল ১০টায় লাইট হাউস হোটেল, মোটেল ও কটেজ জোন এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত শিশু, সুবিধা বঞ্চিত পথশিশু এবং স্থানীয় নারীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক সুব্রত বিশ্বাস বলেন, শিশুদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হলে আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার নারী ও শিশুর উন্নয়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে জনগণ সচেতন ও সহযোগী না হলে শিশুরা অধিকারবঞ্চিতই থেকে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত জাতির অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করবে। তাই শিশুকে শ্রমে যুক্ত না করে তাদের অধিকার রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
কক্সবাজার নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি মনোয়ারা পারভিন তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্বনন্দিত পর্যটন শহর হওয়া সত্ত্বেও কক্সবাজারে এখনো প্রচুর পথশিশু ও শ্রমজীবী শিশু রয়েছে। পর্যটন শিল্পের প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে আগে নারীর নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে এসব শিশুর জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন করা জরুরি। শিশুকে সস্তা শ্রম বা ভারী কাজে না লাগিয়ে তাদের মৌলিক অধিকার ও শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে পিভিএইচপি প্রকল্পের চাইল্ড রাইটস অফিসার মোঃ কামরুল হাসান বলেন, পর্যটন এলাকায় শিশু শ্রম প্রতিরোধ ও পথশিশুদের অধিকার রক্ষায় সরকারি ভাবে ‘শিশু সুরক্ষা হাব’ স্থাপন করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে আইনের তোয়াক্কা না করে শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে। শিশু শ্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হলে আইনের যথাযথ ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশব্যাপী চলমান নারী ও শিশু সুরক্ষা প্রকল্পের অংশ হিসেবে কক্সবাজারেও বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই কার্যক্রমে সরকারের সহযোগী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে কক্সবাজার নারী ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা।


