মো: সিপাউর রহমান,কুলাউড়া থেকে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ১১ নম্বর শরীফপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. শামছুল হকের উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য ইউনিয়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচির প্রথম দিনে গত বৃহস্পতিবার ইউনিয়নের ৫, ৮ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা প্রজাতির ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নারিকেল, আম, কাঁঠাল ও নিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হয়। একই সঙ্গে রোপণ করা গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
কর্মসূচি প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. শামছুল হক বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মানুষের জন্য একটি বাসযোগ্য, নিরাপদ ও সবুজ ইউনিয়ন তথা দেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু পরিবেশকে সুরক্ষা দেয় না, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবীর ভিত্তি তৈরি করে।”
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত পাঁচ বছরে পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে আমরা স্থানীয় পর্যায়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের প্রত্যাশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শরীফপুর ইউনিয়নে সবুজায়ন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত হবেন।”
শামছুল হক আরও বলেন, “শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। রোপণ করা প্রতিটি চারার যথাযথ পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। একটি চারা বড় হয়ে ছায়া, ফল, অক্সিজেন ও পরিবেশের সুরক্ষা দেবে—তাই প্রত্যেকের উচিত অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং সেটির যত্ন নেওয়া।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মো. শামছুল হক একজন শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা ও রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে পরিবেশ রক্ষায় এমন উদ্যোগ নেওয়াকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
তারা আরও বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই মানুষের কল্যাণ ও এলাকার উন্নয়নে শামছুল হকের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে তিনি শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবেশ রক্ষার মতো জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে এগিয়ে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকলে শরীফপুর ইউনিয়ন আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে উঠবে এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জনসম্পৃক্ত একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে।


